পশ্চিমবঙ্গ হিংসা, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কবলে পড়েছে, তা সরকারের নির্মমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আলিপুরদুয়ারে দাঁড়িয়ে রণহুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর

আলিপুরদুয়ার, ২৯ মে : আজ হিংসা, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কবলে পড়েছে, তা সরকারের নির্মমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের মানুষ এই নির্মমতার অবসান চায় এবং এক নতুন পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধছে বলে দাবি করেন মোদী।

মোদী বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গ একাধিক সংকটে জর্জরিত। মানুষ আর নির্মম সরকার চায় না। তারা চায় পরিবর্তন, সুশাসন। সমগ্র বাংলা আজ বলে উঠেছে— আর না, আর সহ্য নয় দুর্নীতি ও অত্যাচার।” তিনি মুর্শিদাবাদ ও মালদহে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে বলেন, এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে তৃণমূল সরকার কতটা নির্মম এবং সাধারণ মানুষের কষ্টে কতটা উদাসীন।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “প্রথমত, রাজ্যে সর্বব্যাপী হিংসা ও বিশৃঙ্খলা সমাজের ভিতকে ভেঙে দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মায়েদের ও বোনেদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েই চলেছে। নারীদের উপর ঘটে চলা নৃশংস অপরাধগুলি রাজ্যের সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় সংকট হচ্ছে যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশা, যেটির মূল কারণ কর্মসংস্থানের অভাব। চতুর্থত, সর্বব্যাপী দুর্নীতি যা জনমানসে প্রশাসনের উপর থেকে বিশ্বাস হ্রাস করছে। পঞ্চম সংকট, শাসক দলের স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি, যার ফলে দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কয়েক হাজার শিক্ষক ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে। এটা শুধু কিছু চাকরির প্রশ্ন নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আঘাত। অথচ, সরকার নিজের দোষ স্বীকার না করে আদালত ও বিচার ব্যবস্থার উপর দোষ চাপাচ্ছে।”

তিনি বলেন, এই দুর্নীতির বোঝা আজ বইছে রাজ্যের যুব সমাজ, গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি। তাই এখন জনগণের মন থেকে তৃণমূল সরকারের উপর বিশ্বাস উঠে গিয়েছে। মোদী আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের বৈঠকে রাজ্য সরকারের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে তৃণমূলের কাছে রাজ্যের উন্নয়ন নয়, বরং রাজনীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।