মণিপুরে পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রের পূর্ণ সহায়তা, থাঙ্গা অঞ্চলকে জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা নীতিন গড়কড়ীর

নয়াদিল্লি, ২৯ মে : মণিপুরে শান্তি, সংযোগ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ী এবং বিজেপি মণিপুর শাখার মুখ্য মুখপাত্র ও লোকতাক ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম. আসনিকুমার সিংয়ের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে হয়।

বৈঠকে মণিপুর রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একাধিক পরিকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে থাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের বহুদিনের সংযোগ সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে আসনিকুমার সিং একটি সুসংহত প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশনুপুর, ইম্ফল ওয়েস্ট, কাকচিং এবং থৌবাল জেলার অরং তেরা, লাফুপাত, কোমলাখং সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন ভূপ্রকৃতি ও অবকাঠামোগত ঘাটতির সম্মুখীন।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মুখ্য দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মইরাং-থাঙ্গা রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যা স্থানীয় মানুষের জন্য একটি কৌশলগত করিডোর হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া লোকতাক হ্রদের উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে, যা মুকাপ, মান্ধা ও ছিংথিকে সংযুক্ত করে আন্তঃআঞ্চলিক চলাচল আরও সহজ ও দ্রুততর করবে। প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তার অংশকে জাতীয় সড়ক ২ -এর সঙ্গে সংযুক্ত করা, যার ফলে এই রাস্তাটি জাতীয় কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব লাভ করবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে থাঙ্গা কেন্দ্রের সার্বিক রূপান্তর ঘটবে বলে মনে করছেন এম. আসনিকুমার সিং। তাঁর মতে, এই প্রকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি ইকো ও হেরিটেজ ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে আতিথেয়তা ও পরিষেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা বিশেষ করে গ্রামীণ ও তরুণ সমাজের জন্য টেকসই জীবিকার পথ প্রশস্ত করবে। এই উদ্যোগ থাঙ্গাকে মণিপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাব ভারত সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক করিডর সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গড়কড়ী প্রস্তাবটি মনোযোগ সহকারে পর্যালোচনা করে এর গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং বহিরাগত সহায়তা প্রোগ্রাম-এর আওতায় দ্রুত মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। তিনি প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রকের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাসও দেন।

প্রস্তাবটি ইতিমধ্যেই মণিপুরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং জন নির্মাণ মন্ত্রীর সমর্থন পেয়েছে। জন নির্মাণ দফতরের সচিবালয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রধান প্রকৌশলীকে একটি কনসেপ্ট নোট ও বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছে।

এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মণিপুরের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে, যা রাজ্যের শান্তি, সংযোগ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।