পিএমকে-তে ফাটল, রামদাসের ডাকা ২৩০ নেতার বৈঠকে হাজির মাত্র ১৩ জন

ভিল্লুপুরম, ১৭ মে: পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি (পিএমকে)-র প্রতিষ্ঠাতা ডঃ এস রামদাস শুক্রবার তাঁর থাইলাপুরম ফার্মহাউসে দলের ২৩০ জন জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৩ জন, যা দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের গভীরতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

৮৫ বছর বয়সী রামদাস যদিও বিষয়টি হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, “অনেকেই ক্লান্ত ছিলেন ১১ মে মামল্লপুরমে হওয়া যুব সম্মেলনের পর। ফোনে জানিয়েছে তাই আসতে পারেনি।” কিন্তু দলের অন্দরের খবর বলছে অন্য কথা।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মামল্লপুরমের সভায় রামদাস প্রকাশ্যে তাঁর ছেলে ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনবুমণি রামদাসকে আক্রমণ করায় অনেক নেতাই অসন্তুষ্ট। তারা মনে করছেন, এটি একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয় ছিল, যা প্রকাশ্যে না আনাই উচিত ছিল।

দলীয় এক সিনিয়র নেতা বলেন, “রামদাস যা বললেন তা ঘরের কথা, মঞ্চে বলার মতো ছিল না। এতে অনবুমণিকে হেয় করা হয়েছে এবং দলের মনোবলেও প্রভাব পড়েছে।”

এই বৈঠক ছিল রামদাসের প্রথম বড় পদক্ষেপ অনবুমণিকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে নিজেকে আবার ‘প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি’ ঘোষণা করার পর। অনবুমণিকে এখন ‘কার্যকরী সভাপতি’ হিসেবে রাখা হয়েছে। রামদাস বলেন, “তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। হয়তো পথে রয়েছে।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনবুমণি বৈঠকে যোগ দেননি।

এই দ্বন্দ্ব শুধু পারিবারিক নয়, রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও। অনবুমণি এনডিএ-র সঙ্গে জোট চালিয়ে যেতে আগ্রহী, অপরদিকে রামদাসের ঘনিষ্ঠ মহল জানায়, তিনি ডিএমকে বা এআইএডিএমকে -র সঙ্গে ফের জোটের বিষয় ভাবনা করছেন।

রামদাস যদিও বলছেন, “পিএমকে-তে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। গোষ্ঠী তো সংগীত অনুষ্ঠানে থাকে। সিংহের পা দুর্বল হয়নি, গর্জনও থামেনি।” তিনি আরও ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন। “আমি শিখিয়েছি, কীভাবে শুয়ে থেকেও নির্বাচন জেতা যায়,” বলেন তিনি।

তবে বাস্তবে মাত্র ১৩ জন জেলা নেতা উপস্থিত থাকা এবং সাম্প্রতিক বক্তৃতায় রামদাসের অবস্থানকে ‘অতিরিক্ত’ বলে দলের ভেতরে সমালোচনা শুরু হওয়ায় তাঁর নেতৃত্ব এখন আগের মতো দৃঢ় আছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।