নতুন দিল্লি: লন্ডনের হাই কোর্ট অফ জাস্টিস, কিংস বেঞ্চ ডিভিশন ফের একবার প্রত্যাখ্যান করল পলাতক হীরার ব্যবসায়ী নীরব মোদির জামিনের আবেদন। ইতিমধ্যেই একাধিকবার তিনি জামিন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
এই মামলায় নীরব মোদির জামিন বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নেয় ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস যাদের সহযোগিতায় ছিল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। শুনানির জন্য সিবিআই বিশেষভাবে লন্ডনে অফিসার পাঠায়। সিবিআইয়ের জোরালো যুক্তির সামনে ভেঙে পড়ে মোদির আবেদন।
নীরব মোদি ভারতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সঙ্গে জড়িত ৬,৪৯৮.২০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত এবং ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডার হিসেবে চিহ্নিত। তিনি গত ১৯ মার্চ, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে কারাবন্দি রয়েছেন।
ভারত সরকারের পক্ষে ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের আদালত তাঁর প্রত্যার্পণের অনুমোদন দিয়েছে। জামিন চেয়ে এটি তাঁর দশম আবেদন ছিল, যা প্রতিবারই সিবিআই-এর বিরোধিতার মুখে খারিজ হয়েছে।
নীরব মোদি ও তাঁর কাকা মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যাংক প্রতারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, মুম্বইয়ের পিএনবি শাখা থেকে ভুয়ো লেটার অফ আন্ডারটেকিং ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা বিভিন্ন ভারতীয় ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেন তাঁরা।
তদন্তকারীদের মতে, নীরব মোদি প্রায় ৬,৪৯৮ কোটি টাকা এবং মেহুল চোকসি ৭,০০০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক প্রতারণা করেছেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিবিআই প্রথম মামলা দায়ের করার আগেই দু’জনেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
নীরব মোদি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জেলে থাকলেও মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে মামলা চলছে বেলজিয়ামে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৬ মে শুক্রবার অ্যান্টওয়ার্পের একটি আদালত তাঁর প্রত্যার্পণ সংক্রান্ত ভারত সরকারের আবেদন শুনবে।
গত মাসে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চোকসির জামিন আবেদন ইতিমধ্যেই খারিজ হয়েছে। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রমাণ পেশ করেছে, যা পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশনের অবস্থান আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামে আইনি প্রক্রিয়া জোর কদমে এগোচ্ছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী—দু’জন পলাতককেই দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

