অপারেশন সিন্দূরের সাফল্যে গর্বিত ভারত: সীমান্ত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরদের সঙ্গে নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ৭ মে : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সহযোগিতা মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক করেন। দিল্লিতে আয়োজিত এই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সিকিম সরকারের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, গোয়েন্দা পরিচালক, বিএসএফ ও সিআইএসএফ-এর মহাপরিচালকেরা।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামে বর্বর সন্ত্রাসবাদী হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভারত এর উপযুক্ত জবাব দেবে। অপারেশন সিন্দূর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।” বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরগণ অপারেশন সিন্দূরের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তিন বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শ্রী শাহ জানান, “অপারেশন সিন্দূর ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সীমান্ত, সেনা ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া সন্ত্রাসবাদীদের উদ্দেশ্যে এক কড়া বার্তা। মোদী সরকারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এই অপারেশন প্রমাণ করেছে।” তাঁর কথায়, ৬-৭ মে মধ্যরাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ৯টি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়, যার মধ্যে ছিল লস্কর-ই-তৈবা, জৈশ-ই-মোহাম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের প্রশিক্ষণ শিবির ও অস্ত্রাগার।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জরুরি পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হাসপাতাল, দমকলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করেন তিনি। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স, হোম গার্ডস, এনসিসি ইত্যাদিকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দেশবিরোধী প্রচার নজরদারিতে রাখতে হবে। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ে তৎপর পদক্ষেপ নিতে হবে। গুজব রুখতে প্রচার বাড়াতে হবে এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা আনতে হবে।” তিনি বলেন, “ভঙ্গুর এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতে হবে।” ভারতবাসীর ঐক্য ও মনোবলকে উৎসাহিত করে অপারেশন সিন্দূর আজ ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে, আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন তিনি।