বাগলিহার ও কিশনগঙ্গা বাঁধ থেকে জল বন্ধ করল ভারত

নয়া দিল্লি, ৪ মে: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিন্ধু জল চুক্তি ঘিরে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত সিন্ধু জল চুক্তিকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং এরপর চেনাব ও ঝেলম নদীর জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে, জম্মু ও কাশ্মীরের রামবনে অবস্থিত বাগলিহার বাঁধ থেকে চেনাব নদীর জল প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঝেলম নদীর উপর নির্মিত কিশনগঙ্গা বাঁধেও একই রকম পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তি দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টন নিয়ে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু, চেনাব ও ঝেলম নদীর জল পাকিস্তানকে এবং বাকি তিনটি নদীর জল ভারতের হাতে থাকে। এত বছর যাবৎ বহু যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেও এই চুক্তি বহাল ছিল। তবে সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁও অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত কড়া অবস্থান নিয়ে চুক্তিটি স্থগিত করেছে।

বাগলিহার ও কিশনগঙ্গা – এই দুই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বহু বছর ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এই বাঁধগুলি নির্মাণের মাধ্যমে ভারত কৌশলগতভাবে জল নিয়ন্ত্রণ করে, যা তাদের কৃষি ও জলের প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষত, কিশনগঙ্গা প্রকল্প, যা নীলম নদীর উপর নির্মিত, সেটি পাকিস্তানের জন্য জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য এক বড় জল সংকট তৈরি করতে পারে। যেহেতু পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থা অনেকাংশে এই নদীগুলির উপর নির্ভরশীল, তাই এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক এবং সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার জলের রাজনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।