নয়াদিল্লি, ২ মে : আজ সকালে দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (এনসিআর) প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অন্তত দুই শতাধিক বিমান দেরিতে ছেড়েছে বা নামতে পারেনি। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দিল্লির দ্বারকা অঞ্চলে একটি গাছ পড়ে এক মহিলা ও তাঁর তিন সন্তান নিহত হন।
দিল্লি বিমানবন্দরে তিনটি বিমান আহমেদাবাদ ও জয়পুরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্গালোর-দিল্লি ও পুনে-দিল্লি রুটের ফ্লাইটগুলিও এই তালিকায় রয়েছে। ফ্লাইটরাডার অনুযায়ী, দিল্লি বিমানবন্দরে গড়ে ২১ মিনিট দেরিতে বিমান এসেছে এবং ছাড়তে দেরি হয়েছে ৬১ মিনিট পর্যন্ত।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “দিল্লিতে আমাদের কিছু বিমান দেরিতে চলছে বা অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ফলে সামগ্রিক সময়সূচিতে প্রভাব পড়ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে বিঘ্ন কমানো যায়।” দিল্লি রেল বিভাগেরও একই অবস্থা। প্রবল ঝড়ে গাছ পড়ে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ট্রেনের চলাচল দেরিতে হয়েছে।
দিল্লির পরিবহন ও অবকাঠামো পরিস্থিতিও বেহাল। শহরের বিভিন্ন অংশে জলজমার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে দ্বারকা, খানপুর, মিন্টো রোড, লাজপত নগর, মোটিবাগ ও সাউথ এক্সটেনশন রিং রোড। দিল্লির মন্ত্রী পারবেশ বর্মা টুইট করে জানান, “আজ ভোর থেকে আমি বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন করেছি। মিন্টো ব্রিজে গিয়ে দেখি, চারটি পাম্পই সচল ছিল।”
আবহাওয়া দফতরের তথ্যমতে, দিল্লিতে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সাফদারজংয়ে ৭৭ মিমি, লোধি রোডে ৭৮ মিমি, পালামে ৩০ মিমি, নাজাফগড়ে ১৯.৫ মিমি এবং পিতমপুরায় ৩২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রভাবে প্রচুর গাছ উপড়ে পড়েছে, এবং কিছু গাড়ির উপরেও পড়েছে বলে খবর। এখনো পর্যন্ত সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
আবহাওয়া দফতর দিল্লির জন্য শনিবার পর্যন্ত ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, ৭০-৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তির হলেও, মে মাসে দেশে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। তবে ঘন ঘন বজ্রপাত ও ঝড় তাপমাত্রা বাড়তে কিছুটা বাধা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

