পহেলগাঁও হামলার পর মণিপুরে অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্তে তৎপরতা, রাজ্যজুড়ে পুলিশি অভিযান শুরু

ইম্ফল, ২৯ এপ্রিল : জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে, মণিপুর পুলিশ রাজ্যজুড়ে অবৈধ বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের সনাক্ত করতে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসকারী বিদেশিদের চিহ্নিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মণিপুরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (ADGP) কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইম্ফল উপত্যকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই অভিযান চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে লিলং, মিনুথং, কাওকটা, মায়াং ইম্ফল, সোরার মতো স্থান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এইসব এলাকায় অবৈধ বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকরা বৈধ ভিসা বা আইএলপি (ইনার লাইন পারমিট) ছাড়াই বসবাস করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।” প্রত্যেকটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়াও প্রতিটি থানাকে ওই প্রক্রিয়ার সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণের জন্যও বলা হয়েছে। মণিপুর পুলিশের এই উদ্যোগ গুজরাট পুলিশের সাম্প্রতিক সফল অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১,০০০-রও বেশি বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী সনাক্ত হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “গুজরাট পুলিশের অনুরূপ পদক্ষেপের ভিত্তিতে মণিপুরেও সংশ্লিষ্ট থানা এলাকাগুলিতে জরিপ ও যাচাই করাটাই এখন সময়ের দাবি।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, মণিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের সমস্যার সম্মুখীন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইম্ফল পশ্চিম জেলার মায়াং ইম্ফল এলাকা থেকে ২৯ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় রাজস্ব দপ্তরের এক কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি ভুয়ো আইএলপি এবং অন্যান্য নথিপত্র দিয়ে এই বিদেশিদের প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ।

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মণিপুর সরকার ও পুলিশ নজরদারি আরও জোরদার করেছে, যাতে রাজ্যের ভেতরে কোন অবৈধ বিদেশি নাগরিক গোপনে বসবাস করতে না পারে।