রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে আধুনিক পরিষেবা সম্বলিত নয়া হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৩ এপ্রিল: জনগণের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার আগরতলার জ্যাকসন গেইট সংলগ্ন সিভিল হসপিটালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ সাহা বলেন, এখানে একটা ৫০ শয্যার আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্র হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন বিভাগের ওপিডি সহ মাইনর ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থাকবে। স্থানীয় লোকজন সহ শহর এলাকায় থাকা ব্যবসায়ীরা এই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদের জিবি বা আইজিএম যেতে হবে না।
এর পাশাপাশি যারা বিভিন্ন কাজকর্মে আগরতলা শহরে আসেন তারাও এই হাসপাতালের পরিষেবা নিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রমিকরাও এখান থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এরকম একটা জায়গায় আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। যা সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কাজে আসবে। এতে আইজিএম হাসপাতালের উপর রোগীর চাপও কমবে। একটা মাইনর ওটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। লিফটও থাকবে। ৬ মাসের মধ্যে এর যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। আগরতলা পুর নিগমের ব্যবস্থাপনায় এই হাসপাতাল চলবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল। মুম্বাইয়ে যেমন নায়ার মেডিকেল কলেজ, নায়ার ডেন্টাল কলেজ সহ আরো অনেক হাসপাতাল রয়েছে যেগুলি পুর কর্পোরেশন এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই আমি আমাদের পুর নিগমের মেয়রকে বলেছিলাম যে এধরণের হাসপাতাল আগরতলায় গড়ে তোলা যায় কিনা। তাই স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যেকেও এবিষয়ে বলা হয়। আমরা জায়গা খুঁজছিলাম। এরপর এই জায়গাটা পাওয়া যায়। আগে এখানে শ্রম দপ্তরের অফিস ছিল। তারা নতুন বিল্ডিংয়ে চলে গিয়েছে। এখন এটা যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে। তবে কিছু জায়গায় মেরামত করতে হবে। আর এই নতুন হাসপাতালটিতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পরিষেবা প্রদানের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আগরতলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকায় সকলে এর পরিষেবা নিতে পারবেন। এটা স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নতুন পালক যুক্ত হলো স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুর নিগমের।
ডাঃ সাহা বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি রোগী ও তাদের পরিবারের কথা ভাবনায় রেখে কিছুদিন আগে জিবি হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতি ও রোটারি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১০ টাকা মূল্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও বাজেটে একটা শেল্টার হাউজ গড়ে তোলার জন্য আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে।
এদিন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশনের আধিকারিক ড. শৈলেশ কুমার যাদব সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *