শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে অতিষ্ঠ পুত্রবধূ, কলঙ্কজনক ঘটনা কমলপুরে

আগরতলা, ৬ জানুয়ারি : দুই সন্তানের জননীর উপর শ্বশুরের অত্যাচারকে ঘিরে কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে কমলপুরে। বধূর চিৎকার শুনে পাড়ার লোক ছুটে আসলে সেখান থেকে পালিয়ে যান ৭২ বছর বয়সী শ্বশুর।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর কমলপুরের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল মিয়া পুত্রবধূকে ধর্ষণ করতে গিয়ে উলঙ্গ অবস্থায় ক্যামেরাবন্দি হয়েছিলেন। শ্বশুরকে নিজ ঘরে হঠাৎ উলঙ্গ অবস্থায় দেখে বধূ চিৎকার শুরু করে দেয়। তাঁর আওয়াজ শুনে পাড়া পড়শী ছুটে আসছে বুঝে নগ্ন অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যান শ্বশুর।

নির্যাতিতা পুত্রবধূ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই সন্তান নিয়ে একা বসবাস করছেন তিনি। শ্বশুর বাড়ি কিংবা স্বামী থেকে কোনো প্রকার ভরণ পোষণ পান না তিনি। পাড়ার লোকজন থেকেই সাহায্য নিয়ে দিন চলে তাঁর।

তিনি আরো বলেন, তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে কেরলে থাকেন। বিগত বছরে স্বামী বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর চরিত্রের উপর প্রশ্ন তুলে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করেছিলেন। পাশাপাশি স্বামী- স্ত্রীর গোপন মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল করে দেন। তারপর স্বামী তাঁকে তালাক দেওয়ায় সে নিজের শ্বশুরবাড়ি থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন।

ওই পুত্রবধূ জানাযন, গত ২৯ ডিসেম্বর সন্তানদের নিয়ে তিনি যখন দুপুরে ঘুমিয়েছিলেন, তখন তাঁর শ্বশুর ঘরে আসেন। ঘুম ভাঙতেই তিনি উঠে দেখেন শ্বশুর উলঙ্গ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। এই দেখে বধূ চিৎকার শুরু করে দেন। শ্বশুর সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন উলঙ্গ অবস্থায় ইসমাইল মিয়ার ভিডিও করে নেন।

ওই পুত্রবধূ পরে পুলিশের কাছে এই ঘটনা নিয়ে মামলা করতে গেলেও সঠিকভাবে সহায়তা পান নি। পুলিশ ওই অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে গেলেও তিনি আবার বেরিয়ে এসে পড়েন। একাধিকবার এমন হয়েছে দেখে আতঙ্কিত ওই পুত্রবধূ। তাই আজ কমলপুর প্রেসক্লাবে গিয়ে এইসব ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সম্মুখে তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্যাতিত শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাঁর সাথে চরম পর্যায়ে নির্যাতন করায় তিনি সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। কিন্তু তাঁর পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এদিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাঁকে প্রতিনিয়ত ফোন করে হুমকি দিচ্ছে। এই অবস্থায় সঠিক বিচারের আশায় রয়েছেন ওই গৃহবধূ।