ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া ব্রজেন দাসের  জন্মদিন সোমবার 

কলকাতা, ৮ ডিসেম্বর (হি.স.): ইংলিশ চ্যানেল। বিখ্যাত এই চ্যানেল অতিক্রম করা প্রথম এশীয় ও বাঙালি ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে মোট ছয়বার চ্যানেলটি অতিক্রম করেন তিনি।

১৯২৭ সালের ৯ ডিসেম্বর। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া গ্রামে জন্ম নেন ব্রজেন দাস। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে পড়াশোনা ও সাঁতারের পাঠ নিয়েছিলেন ঢাকা ও কলকাতায়।

১৯৫৮ সালে অনুষ্ঠিত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার আগে ব্রজেন দাস ভূমধ্যসাগরে কাপ্রি থেকে নেপলস পর্যন্ত সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ৩৩ কিলোমিটার দূরপাল্লার সাঁতারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। এটি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার আগে তাঁর উৎসাহ আরও বাড়ায়।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে ব্রজেন দাস ছয়বার ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে অতিক্রম করেন। এর মধ্যে ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে দ্রুততম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড গড়েন। এর আগে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে অতিক্রম করার সর্বনিম্ন রেকর্ড সময় ছিল ১০ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।

কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলী ব্রজেন দাসকে বলেছিলেন, আমি হচ্ছি ‘কিং অব রিং’ আর আপনি হচ্ছেন ‘কিং অব চ্যানেল’, আপনার অর্জন আমার চেয়ে ঢের বেশি গৌরবের। ১৯৮৫ সালে সাফ গেমসে ব্রজেন দাসকে উদ্দেশ করে আলী এ মন্তব্য করেছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ব্রজেন তুমি মিরাকল দেখিয়েছ, বাঙালিরা তোমার জন্য গর্বিত। পন্ডিত জহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই আপনার জন্য গর্বিত। আইয়ুব খান বলেছিলেন, প্রতিটি পাকিস্তানির হৃদয়ে তোমার নাম লেখা থাকবে। ১৯৬১ সালে তিনি রানী এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করেন। রানী তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, চমৎকার অর্জন, আপনার কৃতিত্বের জন্য সহৃদয় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অমিতাভ বচ্চন নয়াদিল্লিতে ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে বলেছিলেন, দাদা, জয়া আমাকে আপনার অর্জন সম্পর্কে জানিয়েছে, আমি আপনার অটোগ্রাফ চাই, এটি রেখে দেব এবং আমাদের ছেলেমেয়েদের দেখাব। পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্নর লে. জে. আজম খান বলেছিলেন, ‘তু বাঙ্গাল কা শের হ্যায়’।

তাঁর এই কৃতিত্বের জন্য ১৯৭৬ সালে পান জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। ১৯৯৯ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়।

১৯৯৮ সালের ১ জুন প্রয়াত হন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *