চট্টগ্রাম, ৩ ডিসেম্বর (হি.স.) : প্রত্যাশা মতোই সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানি আরও একমাসের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার ছিল তাঁর জামিন শুনানির দিন। কিন্তু আদালতে চিন্ময় প্রভুর পক্ষে কোনও কৌঁসুলি (আইনজীবী) না থাকায় এক মাস পর আগামী বছরের ২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মফিজুর রহমান জানান, আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মহম্মদ সাইফুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতারকৃত চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতে কোনও আইনজীবী তাঁর পক্ষে দাঁড়াতে পারেননি, তাই আজ শুনানি হয়নি। অন্য এক সূত্ৰে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষও এই মামলার শুনানি না করে সময়ের আবেদন করেছে।
চট্টগ্রাম ইসকন প্রবর্তক মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁর পক্ষে যে আইনজীবীরা দাঁড়ানোর কথা, তাঁদের সবাইকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তাই শুনানিতে তাঁদের যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, আইনজীবিদের সবাইকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। কোনও আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পিপি এবং এপিপির পদত্যাগের দাবিতে কী একটা অবস্থা হলো! তাঁদের অবস্থা এমন হলে সাধারণ আইনজীবীর অবস্থা কী হবে? প্রশ্ন তুলেছেন গৌরাঙ্গ দাস।
প্রসঙ্গত, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিতে তাঁর পক্ষে কোনও আইনজীবী দাঁড়াবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী নিজেই মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে ভয়ে অনুসারী আইনজীবীরাও হাল ছেড়েছেন, সবাইকে মামলার আসামি করে ঘরবাড়ি ছাড়া করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের গুরুতর অভিযোগ, প্রথম দিকে চিন্ময় প্রভুর পক্ষে ১১৬ জন হিন্দু আইনজীবী দাঁড়ালেও তাঁদের অধিকাংশই এখন এই মামলার আসামি। হামলার ভয়ে সন্ত্রস্ত। ইতিমধ্যে কয়েকজনের বাড়ি ও চেম্বারে হামলা সংগঠিত হয়েছে। আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দু আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের পক্ষে যাতে কোনও আইনজীবী আসতে না পারেন, সেজন্য আগে থেকেই মামলা হামলা চলেছে। আসলে এগুলো সব পরিকল্পিত, বলেছেন সংখ্যালঘু মানবাধিকার কর্মীরা।
কেবল তা-ই নয়, হামলায় আইনজীবী রমেন রায় এখন আইসিইউতে, মুত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। তাঁর বুকের পাঁজর, হাড় মাথা সহ সারা শরীরে আঘাত, অবস্থা আশঙ্কাজনক। চট্টগ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হাজারিগলি, পাথরঘাটা থেকে চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করার পর হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। ওই দিন রাতে দুষ্কৃতকারীরা হাজারিগলির কালীমন্দির, পাথরঘাটার লোকনাথ মন্দির সহ বেশ কয়েকটি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছে, ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ বহুজন আইনজীবী রমেন রায়ের ছবি পোস্ট করে তাঁর আরোগ্য প্রার্থনা করছেন, বলেছেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীরা।
তারা জানান, আইনজীবী রমেন রায়ের সারা শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর দাগ স্পষ্ট। এমতাবস্থায় কোনও আইনজীবী পাচ্ছেন না চিন্ময় প্রভু। তাঁর পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশগ্রহণকারী অ্যাডভোকেট রিগ্যান আচার্যকেও মারধর করে তাঁর চেম্বার ভাঙা হয়েছে। অসংখ্য আইনজীবী যাঁরা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জন্য শুনানি করেছিলেন সবাইকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।