সীমান্ত পাহারায় সাফল্য বিএসএফের, অনুপ্রবেশের দায়ে ৯৩৫ জন আটক, প্রতিষ্ঠা দিবসে ম্যাগাজিন “গজরাজ” প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১ ডিসেম্বর : সীমান্তে কড়া পাহারায় অনুপ্রবেশের দায়ে ৯৩৫ জন রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী এবং ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ। পাশাপাশি, প্রচুর পরিমানে মাদক ও পাচার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। ১ ডিসেম্বর বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স- এর ৬০ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা। আজকের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বিএসএফ ম্যাগাজিন “গজরাজ”ও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার ২০২৪ সালে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অর্জন করেছে। বিএসএফ সৈন্যরা উচ্চ স্তরের নজরদারি এবং সতর্কতা বজায় রাখায় ১৩৮৩ টি গবাদি পশু উদ্ধার এবং মাদকদ্রব্য আটক করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ফেনসিডিল ছিল ৬৬,৩১৬ বোতল, গাঁজা ছিল ৯,৩০৩.২৪ কেজি, ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল ৬০৫,৩৩৪ ট্যাবলেট, চিনি ছিল ১,২২২,৮৯৪.৫ কেজি, সোনা উদ্ধার করা হয় ৪৯৬.২৬ গ্রাম, ব্রাউন সুগার ৩৮১.০১গ্রাম, অস্ত্র/গোলাবারুদের মধ্যে ছিল ১টি পিস্তল (৭.৬৫ মিমি) এবং ২১০টি গোলাবারুদ / অস্ত্র); এসবের পাশাপাশি সৈন্যরা ৪৮,৬০,৭৩৫ টাকা বাংলাদেশী মুদ্রা সহ ৪৬,০০,৪৫,০৭৪ টাকা মূল্যের বিবিধ জিনিস বাজেয়াপ্ত করতে সক্ষম হয়।

উপরন্তু, বিএসএফ বিভিন্ন অভিযানে ৫৫ রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসী, ৬২০ বাংলাদেশী এবং ২৬০ ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সাথে যৌথ অভিযানের ফলে ত্রিপুরায় ৩০১.৩১ একর জমিতে বেআইনিভাবে জন্মানো প্রায় ৮৩৫,৮০০ টি গাঁজার চারা উপড়ে বা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা দেশের জন্য দায়িত্ব পালনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একাত্তরের বীর সেনাদের সংবর্ধনা প্রদানের করেন। মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত বিএসএফ কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য তাদের সকল প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৫ সালে বিএসএফ এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে, এই ফোর্সের সেনা সদস্যরা সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বের অনুকরণীয় মান বজায় রেখে জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে। বিএসএফ জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছে।

ত্রিপুরায় বছরের পর বছর ধরে বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই, সীমান্তের পবিত্রতা বজায় রাখা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ সহ অসংখ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ম্যালেরিয়া-আক্রান্ত অঞ্চল সহ দুর্গম এবং আতিথ্যহীন ভূখণ্ডে প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতিতে নিজের কাজগুলো দায়িত্ব সহকারে সম্পন্ন করছে তাঁরা। বিএসএফ রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ধারাবাহিকভাবে সমন্বয় বজায় রেখেছে, সীমান্ত রক্ষা করে এবং সীমান্ত জনসংখ্যার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখে।

বিএসএফ সীমান্ত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া টুর্নামেন্ট এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সহ অসংখ্য সিভিক অ্যাকশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৭০০ গ্রাম সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় ঐক্যের প্রচারে বিএসএফ এর পক্ষ থেকে ত্রিপুরা জুড়ে ব্যান্ড প্রদর্শন, অস্ত্র প্রদর্শনী, মোটরসাইকেল র‌্যালি, স্কুলের শিশুদের জন্য সীমান্ত পরিদর্শন, বৃক্ষরোপণ, একতা দৌড়, ক্রীড়া ইভেন্ট এবং রক্তদান শিবিরের মতো ইভেন্টগুলি আয়োজন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে, বিভিন্ন স্থানে যোগ সেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেক্টর, ইউনিট এবং বর্ডার ফাঁড়ি স্তরে স্বচ্ছতা অভিযান পরিচালিত হয়। পরিবেশ রক্ষায় বৃহৎ আকারের বৃক্ষরোপণ অভিযানও শুরু হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মেঘালয়ের শিলং-এ আইজি বিএসএফ-রিজিয়ন কমান্ডারদের বিজিবি বর্ডার কোঅর্ডিনেশন কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। দুটি বর্ডার গার্ডিং ফোর্সের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, সীমান্ত জনসংখ্যার কল্যাণের প্রচার এবং দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য মূল দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এদিকে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় বিএসএফ, বিজিবি এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে, ভারতীয় ছাত্র ও শ্রমিকদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে, তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে। সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির সময়, বিএসএফও ত্রিপুরার জনগণকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *