কলকাতা, সেপ্টেম্বর (হি. স.) বর্ষীয়ান কবি রত্নেশ্বর হাজরা প্রয়াত। দক্ষিণ কলকাতার কুঁদঘাট এলাকায় থাকতেন তিনি। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাহিত্য জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। উল্লেখ্য, অবিভক্ত বাংলার বরিশালে ১৯৩৭ সালে তাঁর জন্ম। যদিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। প্রথম কাব্যগ্রন্থ “বিষণ্ণ ঋতু” ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। বাংলা কাব্য জগতে গত শতকের ছয়ের দশকের তাঁর সৃষ্টি অনবদ্য। উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মান জিতেছেন তিনি। রায়গুণাকর ভারত চন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির অভিঞ্জান পুরস্কার শিশু সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। মূলতঃ তাঁর কবিতায় আঙ্গিক – সচেতনতা, রহস্যময় ভৌগলিক পরিবেশ ও যতিচিহ্নহীনতা অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মাত্র ১২ বছর বয়সেই পিতৃহারা হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৪৬-৪৭ নাগাদ দাঙ্গার অভিঘাতে উদ্বাস্তু হয়ে কলকাতায় পাড়ি দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আশুতোষ কলেজে পড়াশোনা ও স্নাতক। এরপর রাজ্য সরকারের চাকরিতে যোগদান ও অবসর। মহাকরণে অর্থ দফতরে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭০ সালে অতিথি সম্পাদক রূপে ‘দৈনিক কবিতা’ য় একটি সংখ্যা সম্পাদনা করেন তিনি। তাঁর অনুদিত গ্রন্থের মধ্যেই রয়েছে। (ক) জয়দেবের গীতগোবিন্দ, (খ) কালিদাসের ঋতুসংহার। একাধিক জনপ্রিয় কবিতার মধ্যেই রয়েছে – কেউ না কেউ মনে রাখে, আমি স্বাভাবিক, নিজের মতো করে, নাগরদোলা, দেখছি তাঁকে, পাতা পড়ে, পাতা কেন পড়ে! সে এরকমই, মৃত্যু চেয়ে, এসেছে যখন, প্রকৃতি যা তাই, বর্নপরিচয়, আসছি – ইত্যাদি। প্রসঙ্গতঃ ২০১৫ সালের রামনাথ বিশ্বাস স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় তাঁর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।
2024-09-13