এনএলএফটি ও এটিটিএফের সাথে শান্তি চুক্তিতে দীর্ঘ ৩৫ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান হয়েছে : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী 

আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর: আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি, যারা শান্তি চুক্তি অনুসারে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ৩২৮ জন বৈরীর জন্য ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

নয়াদিল্লিতে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জোর গলায় বলেন, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (এনএলএফটি) এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ)-এর সাথে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি ত্রিপুরায় বিদ্রোহী আন্দোলনকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে। এই পদক্ষেপটিকে একটি “মাইলফলক” বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এনএলএফটি ও এটিটিএফের সাথে শান্তি চুক্তিতে দীর্ঘ ৩৫ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান হয়েছে।

এদিন শ্রী শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং দিল্লির মধ্যে ব্যবধান মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবা পরিবহণের সমস্যা দূর করেছেম। পাশাপাশি, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও দিল্লির মানুষের মধ্যে হৃদয়ের সম্পর্কও মজবুত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অষ্টলক্ষ্মী’ এবং ‘পূর্বোদয়’-এর ধারণাকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনো পর্যন্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে মোট ১২টি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জীবনের মূলধারায় পুনরায় যোগদানের জন্য প্রায় ১০,০০০ জঙ্গি অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। এই চুক্তিগুলোর সফল বাস্তবায়ন হাজার হাজার জীবন বাঁচিয়েছে; হোক সেটা বিদ্রোহী, নিরাপত্তা কর্মী বা নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। এনএলএফটি এবং এটিটিএফ এর সাথে এই শান্তি চুক্তির পর ৩২৮ জন বৈরী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন এবং ত্রিপুরার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবেন। এই উদ্দেশ্যে ২৫০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজ মঞ্জুর করা হয়েছে।

চতুর্পক্ষীয় ব্রু চুক্তির সাফল্য উল্লেখ করে শাহ বলেন, ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ব্রু চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। আজ, হাজার হাজার ব্রু তাদের নিজেদের বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করেছেন। 

তিনি এনএলএফটি এবং এটিটিএফ সদস্যদের আশ্বস্ত করেছেন, আজকের স্বাক্ষরিত চুক্তিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তিপরাসা জনগণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দ্বারা পূরণ করা হবে। আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট (AFSPA) পুরো ত্রিপুরা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাথে তিনি যোগ করেন,  ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ঋণী থাকবে। 

তাছাড়া, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডঃ) মানিক সাহা সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলে শান্তির পরিবেশ তৈরি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত এক ডজন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এই চুক্তিগুলির বেশিরভাগই খুব জটিল এবং সমালোচনামূলক সমস্যার সমাধান করেছে। এছাড়াও, ভারত সরকার এবং ত্রিপুরা সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন পরিবর্তনের জন্য অনেকগুলি প্রকল্প চালু করেছে। তিনি এনএলএফটি এবং এটিটিএফ-এর সকল সদস্যকে সমাজের অংশ হতে এবং সমৃদ্ধি ও শান্তিতে পূর্ণ জীবনযাপন করার জন্য স্বাগত জানিয়েছেন।

এদিন এনএলএফটি এবং এটিটিএফ-এর ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এনএলএফটি (বিএম) গ্রুপের প্রধান বিশ্ব মোহন দেববর্মা এবং সংস্থার সহ-সভাপতি উপেন্দ্র রেয়াং চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং এটিটিএফের থেকে আলিন্দ্র রেয়াং মূল স্বাক্ষরকারী ছিলেন।

এদিন এনএলএফটি নেতা উপেন্দ্র রেয়াং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আস্থা দেখিয়ে মূলধারার জীবনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আশাবাদী ভারত সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে এবং তিপরাসা জনগণের কল্যাণে আর্থিক প্যাকেজ বাস্তবায়ন করবে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিপরাসা জনগণের সমস্যাগুলি সমাধান করা চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

তাছাড়া, এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের এনই উপদেষ্টা এ কে মিশ্র, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, তিপরা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন, আইবি প্রধান তপন ডেকা, এমএইচএ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।