আগরতলা, ১০ আগস্ট: ত্রিপুরায় সূচনা হল পাম তেল প্রক্রিয়াকরন কারখানা, গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের। গোদ্রেজ কোম্পানি এবং ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে শুরু হলো এই প্রক্রিয়াকরন। ধলাই জেলার নালকাটায় রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ নিজ হাতে এদিন ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন এই প্রক্রিয়াকরন কেন্দ্রের।ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে পাম গাছের থেকে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া। রাজ্য সরকার এবং গোদ্রেজ কোম্পানির মাধ্যমে সাক্ষরিত চুক্তির পর শনিবার ধলাই জেলার নালকাটায় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয় সেই পাম তেল প্রক্রিয়াকরন কারখানা এবং গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের। এই উপলক্ষে শনিবার নালকাটার সরকারী ওচার্ডে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তর ও গোদ্রেজ অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং গোদ্রেজ কোম্পানির পদস্থদের উপস্থিতিতে এদিন নালকাটায় হয় এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। প্রক্রিয়াকরন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। উপস্থিত ছিলেন পাম তেল প্রক্রিয়াকরনের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সৌগত নিয়োগী, স্থানীয় বিধায়ক পলদাংশু, কৃষি দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে আলোচনা রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন ভারতে ভোজ্য তেলের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটাই কম। তিনি বলেন,বর্তমানে ভারতের ৩ লক্ষ ৭০ হাজার হেক্টর এলাকায় পাম চাষ হচ্ছে। চাহিদার সাথে যোগান বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী জানিয়েছেন, ত্রিপুরার মাটি পাম চাষের জন্য উত্তম। তাই রাজ্যে পাম চাষের জন্য গোদ্রেজ কোম্পানিকে উত্তর, ঊনকোটি এবং ধলাই জেলা ও বাকি পাঁচটি জেলার জন্য পতঞ্জলি ফুডস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন শেষ দুই বছরে রাজ্যের ৮৫৩ হেক্টর জায়গায় লাগানো হয়েছে পামগাছ। এরজন্য সবচাইতে বেশি কাজ করেছে গোদ্রেজ কোম্পানি। মন্ত্রী জানান পাম চাষ করে যেসব চাষীরা সাবলম্বী হতে চইছেন তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে রাজ্য সরকার।
মোট দশ হেক্টর জায়গা জুড়ে নালকাটায় গড়ে উঠবে এই প্রক্রিয়াকরন কেন্দ্র। মালএশিয়া থেকে বীজ এনে চারা তৈরী করে তার থেকেই রাজ্যে তেল উৎপন্ন করবে সংস্থা। এদিন নালকাটা থেকে গণ্ডাছড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পামগাছের চারা। অনুষ্ঠানকে সফল করতে এলাকার চাষীরা উপস্থিত হন অনুষ্ঠানস্থলে। এদিন পাম চাষের জন্য অনলাইন অ্যাপেরও সূচনা করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পাম গাছের চারা রোপন করেন অতিথীরা।