ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাসের ঘটনায় চিৎকার শুরু দিল্লিতে, কংগ্রেসের দাবি, মণিপুরের পথেই ত্রিপুরা হাঁটছে

নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই : ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাসের ঘটনায় চিৎকার শুরু হয়েছে দিল্লিতেও। কংগ্রেস আজ নয়াদিল্লীতে পার্টি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্বেগের সুরে দাবি করেছে, মণিপুরের পথেই ত্রিপুরা হাঁটছে। শাসক দলের মদতে সহিংসতায় নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, বাড়িঘর পুড়ছে। তাই ত্রিপুরার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে কংগ্রেসের সংসদীয় দল শীঘ্রই রাজ্য সফর করবে।

এদিন কংগ্রেস নেতা অজয় কুমার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আজ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে লোকসভা সাংসদ তারিক আনোয়ার এবং গৌরব গগৈকে এআইসিসি পর্যবেক্ষক হিসাবে ত্রিপুরায় নিযুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি জন্মগত দাঙ্গাবাজ। তাছাড়া, বিজেপির দলের কর্মীরা ত্রিপুরায় ক্রমাগত, অন্যায় এবং সহিংস পরিস্থিতি তৈরী করে চলছেন।

রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে শাসক দল বিজেপির লাগাতর সন্ত্রাসে কংগ্রেস কর্মীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। তাঁরা প্রতিনিয়ত ওই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে আছেন। শাসক দলের অত্যাচারের প্রতি রাজ্য সরকারের অন্ধত্ব রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা অবস্থার চরম অবনতি ঘটিয়েছে, আক্ষেপ করে বলেন অজয় কুমার।

তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ত্রিপুরায় সহস্রাধিক রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, ভোট কারচুপির ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। অথচ, ওই সমস্ত অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে ওই সমস্ত অন্যায়ের প্রতিকার মিলেনি, বলেন তিনি। সাথে তিনি যোগ করেন, ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বেও এমন বহু ঘটনা কংগ্রেস কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি, এআইসিসি নেতাদেরও আক্রমনের শিকার হতে হয়েছে।

এদিন তিনি ত্রিপুরার বর্তমান পরিস্থিতিকে মণিপুরের পূর্বাভাস বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘ বছর ধরে মণিপুরে কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মিলেমিশে বসবাসের ইতিহাস রয়েছে। অথচ ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভে তাঁদের বিভাজনের রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে। হিংসায় জর্জরিত হয়েছে মণিপুর। ত্রিপুরাও সেই পথেই এগিয়ে চলেছে।

তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি গণতান্ত্রিক অবক্ষয় এবং সহিংসতার একটি দুঃখজনক বর্ণনা উন্মোচন করেছে। কংগ্রেস প্রার্থীদের উপর শারীরিক আক্রমণ থেকে শুরু করে পার্টি অফিস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান ধ্বংস করে ভয় দেখানোর কৌশল ব্যবহার বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি বিরোধীদের কণ্ঠকে দমনে প্রচারণার বর্ণনা দিচ্ছে, বলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য অপরিহার্য, তিনি যোগ করেন। কুমার বলেন, আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন ভয় ও জবরদস্তি থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রমাণ হিসাবে কাজ করা উচিত।