নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ২৬ মে: খোয়াই মহকুমার সিঙ্গিছড়া শরৎচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পরিচালিত দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষায় নজরকাড়া ফলাফল করেছে। তার নাম দেবস্মিতা দেব। শরৎচন্দ্র দ্বাদশ স্কুলের পরীক্ষার্থী হিসেবে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষায় বসেছিল কৃতী ছাত্রী দেবস্মিতা দেব। সর্বমোট ৪৬৪ নম্বর পেয়েছে দেবস্মিতা। শতাংশের হিসেবে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজরকাড়া সাফল্যের নজির গড়েছে দেবস্মিতা। বাবা সন্দীপ দেব সর্বশিক্ষা প্রকল্পের চুক্তিবদ্ধ শিক্ষক। এই চাকুরীই পরিবারের একমাত্র রুজি রোজগার।
খোয়াই জেলা শহরের এক নং পুর ওয়ার্ডের উত্তর দূর্গানগরে বাড়ী। দেবস্মিতার মা সীমা দেব গৃহিনী। দারিদ্র্য পীড়িত সংসারে বড় হওয়া দেবস্মিতার। জীবনযুদ্ধে অর্জিত হলো সাফল্যও। দেবস্মিতার স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেনীর পড়ার সময় থেকেই ভালো ফলাফল করত। এর মাঝেই এগিয়ে যাওয়া অভাবী ঘরের মেধাবী মেয়ে দেবস্মিতার। প্রাইভেট টিউটরের পয়সা যোগানোই হিমশিম খেতে হয়েছে স্বল্প বেতনের সর্বশিক্ষা প্রকল্পের চুক্তিবদ্ধ শিক্ষক দেবস্মিতার বাবার।
দেবস্মিতা প্রথম শ্রেণী থেকেই সে নিজের বাড়ীর পাশের স্কুল পূর্ণিমা হাই স্কুলের ছাত্রী। পূর্ণিমা হাই স্কুল থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে সেবারেও ভালো ফল করেছিল সে। উত্তর দূর্গানগর, পূর্ণিমা হাই স্কুল ও শরৎচন্দ্র দ্বাদশ স্কুলের মুখ উজ্বল করেছে দেবস্মিতা। সবার কাছেই ছোট্ট মেয়েটি এখন গর্ব।
দেবস্মিতা জানালো যে, খোয়াইয়ের দশরথ দেব মেমোরিয়াল কলেজেই ডিগ্রি স্তরে পড়বে সে। যে কোন একটি বিষয়ে অনার্স নিতে চায় সে। নিজেই জানালো যে, আগে মার্কসিটটা হাতে আসুক। তখন ঠিক হবে কোন্ বিষয়ে অনার্স নেবো। পরে সেই বিষয়েই মাস্টার ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছে। অধ্যাপনা অথবা শিক্ষকতার পেশাই পছন্দ কলা বিভাগের কৃতী ছাত্রী দেবস্মিতার।