গ্রামবাসীর পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষিকা নিয়োগ না করায় অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রে তালা ঝুলালো গ্রামবাসীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মে: গ্রামের শিক্ষিত মহিলাকে নিয়োগ না করায় লেঙ্গুটিয়া পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটিতে গত চারমাস যাবত তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে রেখেছে গ্রামবাসীরা। এতে করে চরম দুর্ভোগে শিশু সহ গর্ভবতী মায়েদের।

সালেমা আইসিডিএসের অধীন এবং দুর্গা চৌমুহনী ব্লকের ছোট সুরমা পঞ্চায়েতের লেঙ্গুটিয়া পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গত চার মাস আগে জনৈকা দিদিমনি অবসর নেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সালেমা আইসিডিএস দপ্তর থেকে দিদিমনি নিয়োগ করার জন্য আবেদন পত্র আহ্বান করেন। কিন্তু, লোকসভা নির্বাচনের কারনে দপ্তর থেকে নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি গ্রামের শিক্ষিত যেকোন মহিলাকে নিয়োগ করতে হবে। এই দাবি জানিয়ে লেঙ্গুটিয়া পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তিনটি দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। আজ চার মাস অতিক্রান্ত হয়।

জানা যায়, গ্রামের শিশুদের পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাল, ডাল দেওয়া হয় কিন্তু, শিশুরা কেন্দ্রে আসে না। কবে নাগাদ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি খোলা হবে তা অনিশ্চিত। লেঙ্গুটিয়া পাড়ার বাসিন্দা লক্ষ্মীকান্ত সৎনামি এবিষয়ে বলেন, এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চার মাস যাবত বন্ধ হয়ে আছে। কারো কোন হেলদোল নাই, জলের জন্য কোথাও অবরোধ হলে এসডিও বিডিও গন্তব্যস্থলে পৌঁছে সমস্যা সমাধান করে। এখানে সব জেনে কেউ এসে সমস্যার সমাধান করেনি। প্রধানের মর্জিমাফিক দিদিমনি নাম দেওয়া জন্য কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রামের এক মহিলা জানান, গ্রামের মানুষ সবাই মিলে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেয়।  জানা গেছে অন্য গ্রাম থেকে দিদিমনি নিয়োগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা চাই আমাদের গ্রাম থেকে দিদিমনি নিয়োগ করা। এবিষয়ে সালেমা আইসিডিএস দপ্তরের সিডিপিও দেবব্রত মিশ্র চৌধুরী বলেন, ঘটনা জানি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে আছে। কারন, গত চার মাস আগে সেন্টারের দিদিমনি অবসরের পর নতুন দিদিমনি নিয়োগের জন্য সিধান্ত নেওয়া হয় এবং ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। কিন্তু গ্রামের মানুষ সমস্যার সৃষ্টি করছে। দপ্তরের এক সহায়িকা শিক্ষা বাড়িয়ে দিদিমনি পদে নিয়োগ চাইছে। এটা সম্ভব নয়। ওই মহিলার পক্ষ নিয়ে গ্রামের সবাই মিলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেন। গ্রামবাসীরা চাইছে অতিসত্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি তালা খুলে চালু করা হোক।