নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২০ মার্চ: রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠতে শুরু করেছে ফাইনান্স কোম্পানি। এইসব ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলির অন্তরালে চিট ফান্ডের স্পষ্ট ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের ১২ জুন ধর্মনগরের পদ্মপুরে উদ্বোধন হয়েছিল রিসতা ফাউন্ডেশন ডেভলপমেন্ট নামে একটি মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানি। এক এক করে পূর্বের চিটফান্ডগুলি যেভাবে মানুষকে ঠকিয়ে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল পুনরায় একই অবস্থা শুরু করেছে নতুন করে ব্যাঙের ছাতার মত গজে ওঠা মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলি।
মানুষ একবার সর্বস্ব খুইয়ে পুনরায় সরকারি সংস্থাগুলির ওপর ভরসা রাখতে শুরু করেছিল। বেশ কিছু মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানি রাজ্যে প্রবেশ করে লোন দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষকে ঠগানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এই ফাঁদে পা দিয়ে আবার সর্বস্ব খাওয়ানোর পথে ধর্মনগর তথা রাজ্যের সাধারণ গরিব শ্রেণীর মানুষ।
সরকারি বা আধা সরকারের সংস্থাগুলির কাছ থেকে লোন পাওয়া বেশ কষ্টকর তাই মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলির পেছনে মানুষ ছুটছে লোন পাবে বলে। কিন্তু একবারও তারা চিন্তা করে না যে পরিমাণ সুদ দিতে হয় তা বাস্তব থেকে অনেক বেশি।
শুধুমাত্র সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে সাধারণ মানুষ সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ছে। ধর্মনগরের পদ্মপুরে এই রিস্তা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানি এই ধরনের মানুষ ঠগানোতে সিদ্ধহস্ত বলে মঙ্গলবার এই সংস্থার অফিস গৃহে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গেল।
জানা গেছে, ২০২৩এর জুন মাসে যখন মেদিনীপুরের এই কোম্পানির উদ্বোধন হয় ত্রিপুরাতে, তখন ৭২টি রিস্তা পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি রিসতা পয়েন্টে ৩০ হাজার টাকা করে অগ্রিম নেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া যারা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগ পেয়েছিল তাদের কাছ থেকে ৯৯৯৯ টাকা করে, সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং অন্যান্য কর্মীদের কাছ থেকে ২০৯৯ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।
প্রত্যেককে বলা হয়েছিল গ্রুপ বানিয়ে গ্রুপ থেকে কমিশন নেওয়ার জন্য। আরো বলা হয় তিন মাস কোন ধরনের বেতন দেওয়া হবে না। তারপর থেকে পদ অনুযায়ী তাদেরকে নির্দিষ্ট বেতন দেওয়া হবে। বেতন দেওয়া হবে বলতে বলতে ২০২৩ সাল শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় কিন্তু কোন ধরনের বেতন দেওয়া হয়নি।
নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এর কর্মচারীরা কোনক্রমে জীবনযাপন করে চলেছে। বেতনের দাবিতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে এবং অনেক রিস্তা পয়েন্টের কর্ণধার তাদের টাকা ঘুড়িয়ে নেওয়া জন্য চাপ দিতে থাকে।
অবশেষে মেদিনীপুর থেকে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মী আসার পর মঙ্গলবার বিক্ষোভের মুখে পড়ে সেই সেন্ট্রাল কর্মী। পরিস্থিতি এই পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে ধর্মনগর থানা থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়।
সার্বিক হিসাব করে দেখা গেছে তাদের এই রাজ্যে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকার উপর আর লোন বাবদ তারা খরচ করেছে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। বাকি লোনগুলি দিনের পর দিন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা অজুহাত দেখিয়ে। এতে রিস্তা পয়েন্টে যারা কাজ করছে তারা দিশেহারা হয়ে মানুষের কাছে কোন জবাব দিতে পারছে না।
জানা গেছে কৈলাসহরে যে ব্রাঞ্চটি খোলা হয়েছিল তা বন্ধ করে ধর্মগরের সাথে মার্চ করিয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু কৈলাসহর যে ঘর ভাড়া নিয়ে কাজ করা হয়েছিল সেই ঘরের ভাড়া পর্যন্ত মিটিয়ে দেওয়া হয়নি এই কোম্পানির তরফে।
সার্বিকভাবে সরকারের এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন প্রতারিত ধর্মনগরের সাধারণ বাসীরা। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এর কোন ধরনের সমাধান সম্ভব নয় বলেই অভিমত সাধারন নাগরিকের।

