কলকাতা, ২৭ ডিসেম্বর (হি.স.) : কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুবল মান্নাকে পদ থেকে ইস্তফার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, সুবল মান্না ঘনিষ্টদের জানিয়েছেন লিখিত নির্দেশ হাতে পাননি।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই তিনি কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীকে ‘গুরুদেব’ বলেছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার বাবার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে সৌজন্য দেখালেও তিনি তৃণমূল কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন ‘গুরুদেব’ বলে।
কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীর দিকে বারবার আঙুল তুলেছে তৃণমূল। অতি সম্প্রতি, সম্পত্তিতে অসঙ্গতির অভিযোগ নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে এক চিঠির ছবি পোস্ট করে কুণাল ঘোষ তীক্ষ্ণ আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। এই আবহেই শিশির অধিকারীর পা ছুঁয়ে রোষে পড়লেন কাঁথির তৃণমূল নেতা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাঁথি ১ ব্লকের সাবাজপুট এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে ছিলেন কাঁথির সাংসদ শিশিরবাবু ও পুরপ্রধান সুবল মান্না। পাশাপাশি দুজনকে বসার আসন দেওয়া হয়। প্রদীপ জ্বালানোর সময় শিশিরবাবু সুবল মান্নাকে কাছে ডেকে নেন। শিশিরবাবু বক্তব্য শেষ করার পর পুরপ্রধান সাংসদকে প্রণাম করেন। তারপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদকে রাজনৈতিক গুরু বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, জন্ম দিয়েছেন পিতামাতা ঠিকই। কিন্তু যিনি পথ দেখিয়েছেন,যার জন্যে আজ আমি এখানে, সেই রাজনৈতিক গুরু শিশির অধিকারীকে প্রণাম জানাই।
পুরপ্রধানের এই বক্তব্য নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। শিশিরবাবু এখনও খাতায় কলমে তৃণমূলের সাংসদ হলেও শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে শাসকদলের সঙ্গে তাঁর বহু ক্রোশের দূরত্ব। ফলে এই অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে অস্বস্তিতে পড়ে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। প্রণাম কাণ্ডে প্রথমে সুবল মান্নাকে শোকজের সিদ্ধান্ত নেয় দল। বুধবার কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হল সুবলবাবুকে।
এ বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান যেভাবে শিশির অধিকারীকে প্রণাম করে গুরু বলেছেন, তা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব ভালোভাবে নেয়নি। ওঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে।”

