আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর।। ইতিমধ্যেই নারী শক্তি বন্ধন বিলকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্য জুড়ে বিরোধীদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণের পেছনে সারা ভারত গনতান্ত্রিক নারী সমিতির ভূমিকা সব থেকে বেশি বলে দাবি সারা ভারত গনতান্ত্রিক নারী সমিতির।
এক বিবৃতিতে সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য লোকসভার সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে আরেকটি মোদি জুমলা। নারী নেত্রী রমা দাস বলেন, কয়েক দশক ধরে এই বিল পাশের জন্য ধারাবাহিক ভাবে নারী সংগঠন দেশব্যাপী আন্দোলন সংগঠিত করে চলেছে। সংসদে ১৯৯৬ সাল থেকে বিলটি উত্থাপনের চেষ্টা হলেও নানা তালবাহানা, বাধা বিপত্তির জন্য বিল পাশ করা সম্ভব হয়নি। সংখ্যা কম থাকায় বিল পাশ হয়নি। ২০১৪ সাল থেকে এন ডি এ সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিল পাশের কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। এমন কি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও বিজেপি সরকার নারী সংরক্ষণ বিল আলোচনার জন্য সংসদে তোলার প্রয়োজনও মনে করেনি।
তিনি আরো বলেন, অথচ বিগত ৯ বছরে বিজেপি-র নেতৃত্বে এন ডি এ সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বহু জনস্বার্থ বিরোধী বিল একের পর এক পাশ করিয়ে নিয়েছে এবং কার্যকরী করে চলেছে। বর্তমান সময়ে দেশের চরম সর্বনাশ রুখতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি-র বিরুদ্ধে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ তৈরী করায় বিজেপি দল আতঙ্কগ্রস্ত, ভয় পেয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই, নতুন সংসদ ভবনে বিশেষ অধিবেশন ডেকে নারী সংরক্ষণ বিল পাশ করানো প্রয়োজন মনে করলেন। এতে বিজেপি দল দেশের মহিলাদের সহানুভূতি পেয়ে যাবেন ভাবছেন, সে গুড়ে বালি, কারণ জনগণনা ও সংসদের আসন ডিলিমিটেশন হওয়ার পর নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে এবং ২০২৯ সালেও এটা কার্যকরী করা যাবে কিনা নিশ্চিত নয়। তার কথায়, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দল পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য এ ধরনের ফন্দি এঁটেছে। দেশের জনগণের এটা বুঝতে কোন অসুবিধা হচ্ছে। না। ২০১৪ সাল থেকে পর পর দুটো নির্বাচনে জনগণকে প্রলোভিত করতে বহু প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি দল। নারী সংরক্ষণ বিল পাশ করানোটাও সেই সব প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল। সুতরাং বিজেপি দলের এই ধরনের জুমলাবাজিতে দেশের নারী সমাজ বিভ্রান্ত হবেন না। বিগত দিনে নারী সংরক্ষণ বিল পাশের দাবীতে সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি সহ দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি ধারাবাহিক ভাবে লড়াই করে আসছে। এই লড়াই আজও চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছেন গনতান্ত্রিক নারী সমিতির নেত্রী রমা দাস।