রাত পোহালেই স্বাধীনতা দিবস, লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় মোতায়েন ১০ হাজার পুলিশ

নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (হি.স.) : রাত পোহালেই স্বাধীনতা দিবস । চিরাচরিত প্রথা মেনে ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তাই দিল্লির লালকেল্লা চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে আটোসাটো । ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে লাল কেল্লার চারপাশে। বসানো হয়েছে ১০০০ ফেসিয়াল রেকগনিশন ক্য়ামেরা , অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম । দুই বছর পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কোনও কোভিডবিধি থাকছে না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লালকেল্লায় অভ্যর্থনা জানাবেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রী অজয় ভাট এবং প্রতিরক্ষা সচিব শ্রী গিরিধর আরামেন। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানাবেন ভারতের তিন বাহিনী এবং দিল্লি পুলিশ বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেবেন দেশের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও দিল্লি পুলিশের একজন করে অফিসার এবং ২৫ জন করে সেনা-কর্মী। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌ-বাহিনীর পক্ষ থেকে একজন আধিকারিক ও ২৪ জন সেনা-কর্মী থাকবেন বিশেষ টিমটিতে। প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানানোর প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। গার্ড অফ অনার অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন মেজর বিকাশ সাঙ্গোয়ান। ভারতীয় সেনা, বিমান ও নৌ-বাহিনীর পক্ষ থেকে আবার পৃথক পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলির পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন যথাক্রমে মেজর ইন্দ্রজিৎ সচিন, এম ভি রাহুল রমন এবং স্কোয়াড্রন লিডার আকাশ গঙ্ঘাস। দিল্লি পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্ব তথা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাডিশনাল ডিসিপি সন্ধ্যা স্বামী।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির নিরাপত্তা ব্য়বস্থা নিয়ে পুলিশের স্পেশাল কমিশনার (আইন-শৃঙ্খলা) দীপেন্দ্র পাঠক জানান, সম্প্রতিই হরিয়ানার নুহ ও মণিপুরে যে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা মাথায় রেখে আরও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার প্রযুক্তির ব্যবহার করছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১ হাজার ফেসিয়াল রেকগনিশন ক্য়ামেরা ও ভিডিয়ো অ্যানালিটিক সিস্টেম বসানো হয়েছে। লালকেল্লায় বসানো হয়েছে অ্য়ান্টি-ড্রোন সিস্টেম। সন্ত্রাসবাদী হামলা রুখতে এয়ার ডিফেন্স গান, স্নাইপার, এলিট সোয়াট কম্যান্ডো ও শার্পশুটার মোতায়েন থাকবে লালকেল্লার বিভিন্ন অংশে। লালকেল্লার সামনে জ্ঞান পথ থেকে গোটা চত্বর ফুলের সাজে ও জি-২০ পোস্টারে সাজিয়ে তোলা হবে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে ১,৮০০ মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল, ইন্ডিয়া গেট, বিজয় চক, নয়াদিল্লি রেল স্টেশন, প্রগতি ময়দান, রাজঘাট, জামা মসজিদ মেট্রো স্টেশন, রাজীব চক মেট্রো স্টেশন, দিল্লি গেট মেট্রো স্টেশন, আইটিও মেট্রো গেট, নওবতখানা এবং শীষগঞ্জ গুরুদ্বার সহ ১২টি বিভিন্ন স্থানে সেলফি পয়েন্টেরও ব্যবস্থা থাকছে। এই সেলফি পয়েন্টগুলি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচির আদলে তৈরি করা হয়েছে।