কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি. স.) : নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। শনিবার বিকেলে তাকে আলিপুরের উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আট চিকিৎসকের একটি দল সারা রাত তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখেন।
চিকিৎসক কৌশিক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, চিকিৎসায় সাড়ে দিলেও এখনও বেশ সঙ্কটজনক অবস্থাতেই রয়েছেন বুদ্ধদেব। । তাঁর শরীরে পাওয়া গিয়েছে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স এক ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ। ক্লেবশিয়েলা নামে এই মারণ ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। ফুসফুসের দু’দিকেই আক্রমণ করেছে নিউমোনিয়া। সে কারণেই বদলে ফেলা হয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক। এখন আগামী ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কৌশিকবাবু বলছেন, “কার্বন-ডাই-অক্সাইডের লেভেল বেড়ে যাওয়ার কারণেই আমরা ওনাকে ভেন্টিলেশনে রাখতে বাধ্য হয়েছি। ওনাকে অনেক কষ্ট করে শ্বাস নিতে হচ্ছিল, প্রেসারেরও অদ্ভুত ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সে কারণেই আমরা ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ওনাকে যে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে তাতে কাজ হবে বলে আমরা আশা করছি। তবে কতটা শারীরিক উন্নতি হবে সেটা আগামী কয়েকদিনে বোঝা যাবে। ওনার শরীর অ্যান্টিবায়োটিক কতটা গ্রহণ করতে পারছে, কতটা কাজে লাগছে, নিউমোনিয়া কমছে কিনা সেটা এখনই বোঝা সম্ভব নয়।”
যদিও হাসপাতাল সূত্রে খবর, রাতে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার পর অনেকটাই ভাল আছেন বুদ্ধবাবু। এখন তাঁর শরীরে সিআরপি ৩১৮। যা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে দেওয়ার পর দেহে অক্সিজেনের মাত্রা ১০০ শতাংশ। তবে এখনও আচ্ছন্ন অবস্থাতেই রয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন বুদ্ধেদেব ভট্টাচার্য । বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বুধবার থেকে জ্বর আসে বুদ্ধবাবুর। শুক্রবার থেকে শুরু হয় মারাত্মক শ্বাসকষ্ট। শনিবার আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি। বাড়িতেই হয় রক্তপরীক্ষা। কিন্তু, তারপরেও কিছুতেই নাকি তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতে চাননি। শনিবার সকালে বালিগঞ্জের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। বিকেলে চিকিত্সকদের পরামর্শে গ্রিন করিডর তৈরি করে তাঁকে আলিপুরের উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।