বুদবুদের চাকতেঁতুলে রাস্তা সারাইয়ের দাবীতে অবরোধ গ্রামবাসীদের

দুর্গাপুর, ২৩ জুলাই (হি. স.) : বিজেপি প্রভাবিত গ্রাম। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও শাসক বিরোধী ভোট পড়েছে বিজেপিতে। অভিযোগ রাস্তা সারাইয়ে দ্বিচারিতা রাজ্যের তৃণমূল সরকারের। আর তাই বেহাল রাস্তা সারানোর দাবীতে অবরোধ করল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। রবিবার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বুদবুদের চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের বনগ্রাম, গোমহল এলাকায়।

বুদবুদের চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের ডিভিসি ক্যানেলের লকগেট থেকে পান্ডুদহ সেতু পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তা। সেচক্যানেলের পাড়ে ওই রাস্তার ওপর রয়েছে, বনগ্রাম, গোমহল সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়াও ওই রাস্তার ওপর নির্ভর করে রয়েছে কয়েক’শ হেক্টর চাষজমিও। লাল মোরামের ওই রাস্তাটি একদশকের বেশী সময় ধরে বেহালদশায়। খানাখন্দে ভর্তি। কোথাও আবার একহাঁটু গর্ত। বৃষ্টিতে আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীদের। বেহাল রাস্তায় সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল পড়ুয়া থেকে রোগীদের। ক্ষুব্ধ
বাসিন্দারা জানান,” গ্রামে ছেলেমেয়েদের স্কুল- কলেজে যাওয়া, হাসপাতাল ও বাজারে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। বর্ষায় ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সাইকেল মোটরবাইক নিয়ে চলাচল দুর অস্ত, পা’য়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।” বাসিন্দারা জানান,” বনগ্রাম, গোমহল থেকে পুর্ব ও পশ্চিম দুদিকে কমপক্ষে আড়াই কিলোমিটার কর্দমাক্ত, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় হেঁটে যেতে হয়। তারপর একটু ভাল রাস্তা পাওয়া যায়। বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কাজের কাজ হয়নি। চরম দুর্ভোগে গ্রামবাসীরা।”

জানা গেছে, গত অর্থ বছর পুর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ থেকে এক কিলোমিটার রাস্তা পিচ করার অনুমোদন দেয়। বাকি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ, ওই রাস্তার ওপর দিয়ে অবৈধ বালি বোঝাই ট্রাক্টরের অবাধ আনাগোনা। দামোদর নদের শাঁকুড়ি, শালডাঙা ঘাট থেকে দিন-রাত চলে অবৈধ বালিবোঝাই ট্রাক্টর। তার জেরে মোরামের ওই রাস্তা ভেঙে পড়েছে। বছর দুয়েক আগেও গ্রামবাসীরা রাস্তা সারাইয়ের দাবীতে সরব হয়েছিল। গোটা রাজ্য যখন রাস্তাশ্রী, পথশ্রীতে মাতোয়ারা। কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী গ্রামীন সড়ক যোজনা প্রকল্প থাকা স্বত্ত্বেও কেন হয়নি রাস্তা সংস্কার কাজ? প্রশ্ন থেকেই যায়।
স্থানীয় বিজেপিকর্মী, বর্নালি মাজি, প্রদ্যুত মন্ডল প্রমুখ জানান,” রাজ্যে পরিবর্তন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওই রাস্তাটি পাকা হবে। ১২ বছরে এখনও পাকা হয়নি। গ্রামবাসীরা বেহাল রাস্তা দিদিকে বলোতে অভিযোগ করেছিল, ছবি তুলেও পাঠিয়েছিল। তারপরও রাস্তাটি সারানো হয়নি।”
প্রসঙ্গত, চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক ভাল। একসময় পঞ্চায়েতটি বিজেপির বোর্ড ছিল। গত ২০১৮ সালে পঞ্চায়েতটি তৃণমূল দখল করে। সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ১৭ টি আসনের মধ্যে, চারটি আসন বিজেপি জয়ী হয়েছে। বাকি আসনগুলিতেও ভাল ফল করেছে গেরুয়া শিবির।
বর্নালি মাজি, প্রদ্যুত মন্ডল প্রমুখ বিজেপিকর্মীরা আরও বলেন,” লোকসভা ভোটে বুথ ভিত্তিক ফলাফলে বিজেপি এগিয়ে। সম্প্রতি পঞ্চায়েত ভোটেও ১১ টি গ্রামসংসদে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বিজেপির। পঞ্চায়েত হাতছাড়া হবে ভেবে গণনায় কারচুপি করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই বিজেপির ভোট বেশী থাকায় রাজ্যের তৃণমূল সরকার রাস্তাটি সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি। তৃণমূল সরকারের এই দ্বিচারিতার তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
যদিও তৃণমূল পরিচালিত চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের প্রাধান অশোক ভট্টাচার্য্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,” রাস্তাটি নতুন করে তৈরীর জন্য জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে পিচ রাস্তা তৈরীর উদ্যোগ জেলা পরিষদ নিয়েছে। এক কিলোমিটার পিচ হয়েছে। বাকি রাস্তা খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *