মঞ্চে মুখর ই ডি অভিযুক্ত সায়নীও

কলকাতা, ২১ জুলাই (হি. স.) : শুক্রবার শ্রদ্ধা দিবসের মঞ্চে উঠেই তৃণমূল রাজ্য যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ ঝাঁঝালো বক্তব্য রেখে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। গত ৩০শে জুন ই ডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার আগে ও পরে কিছুদিনের জন্য তিনি আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। আর তারপরেই তাঁর ২১শে’র মঞ্চে আসা নিয়ে বিস্তর কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল কলকাতার রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু সব জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে সায়নী এসে মঞ্চ থেকে তোপ দাগলেন বিজেপি-র দিকে।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা দেশের বুকে যাতে এই জনবিরোধী সরকার ফের মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে, সেই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। ৯ বছর আগে আপনারা পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে বাজার করতে যেতেন।

তারপর ব্যাগ ভর্তি বাজার করে বাড়ি ফিরতেন। আর এখন ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে যান। আর পকেটে করে জিনিস নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। কেন্দ্রের সরকার এই অবস্থা করেছে সাধারণ মানুষের। তাই ২০২৪ সালে এই জনবিরোধী সরকারকে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। সেটা আপনারাই পারবেন’।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা দেশের বুকে যাতে এই জনবিরোধী সরকার ফের মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে, সেই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। সবাই দু হাত তুলে তৃণমূল সরকারকে আশীর্বাদ করুন’।

পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে থাকাকালীন গত ৩০শে জুন সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়োগ দুর্নীতিতে জেরার জন্য সায়নীকে তলব করে ই ডি। ভোটের প্রচার ছেড়ে হাজিরাও দেন সায়নী। সঙ্গে জানিয়েছিলেন, তদন্তের স্বার্থে যখনই তাঁকে ডাকা হবে, তখনই তিনি আসবেন। তদন্তে সবরকম সহযোগিতাও করবেন।

কিন্তু ৫ই জুলাই তাঁকে জেরার জন্য ই ডি তলব করলে যাননি সায়নী। সেই সময় দলের হয়ে ভোটের প্রচারে নেমেছিলেন তিনি। ই ডি-র মুখোমুখি হওয়ার পর প্রকাশ্যে সেভাবে কিছু না জানালেও শুক্রবারের সমাবেশে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তথা যুব নেত্রী সায়নী কি বক্তব্য পেশ করেন তা নিয়ে আগ্রহ ছিল সকলেরই।

তিনি বক্তব্য রাখাকালীন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে হাজির হওয়ায় বক্তব্য ছোট করে দিতে হয় সায়নীকে। তার মধ্যেই তিনি যেভাবে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রকে, তা আলাদাই ইঙ্গিত বহন করছে’।

সায়নীর কথাতে উঠে আসে মণিপুর প্রসঙ্গও। তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সব গাড়ি সব লরিতে লিখে রাখে বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও। বড় বড় হরফে লেখা থাকে। আর এদিকে মণিপুরে যখন কুকি সম্প্রদায়ের দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে প্যারেড করানো হয়, তখন ওরা মুখে কুলুপ এঁটে থাকে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *