যোগব্যায়ামকে আত্ম-আবিষ্কারের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ১৯ জুন (হি. স.) : যোগব্যায়ামকে আত্ম-আবিষ্কারের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার জন্য মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক(ডা.) মানিক সাহা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচেষ্টায় যোগ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির দিকে পরিচালিত করেছে, যা ভারতীয় দর্শনের গভীরে প্রোথিত। আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবি অডিটোরিয়ামে যোগ, স্বাস্থ্য এবং সুখের উপর দুদিনের একটি জাতীয় সেমিনারের উদ্বোধন করে একথা বলেছেন।

তাঁর কথায়, প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। কারণ ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানের কারণে এই দিনটিকে যোগ দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বিশ্বাস করেন, যোগব্যায়াম নিছক একটি ব্যায়াম নয়। এটা আমাদের দেশের দর্শন। ‘আমি কে’ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগব্যায়ামের মাধ্যমে, আপনি এই অর্থটি বুঝতে পারেন। প্রায়শই, আমরা কথা বলি, আমরা নড়াচড়া করি, আমরা পড়ি, কিন্তু আমরা নিজেদেরকে সত্যিকার অর্থে জানতে ব্যর্থ হই। যোগব্যায়াম আমাদের নিজেদের বুঝতে সাহায্য করে। এটি শরীর, মন এবং বুদ্ধির বিকাশে সহায়তা করে। এটি যোগ অনুশীলনের সারমর্ম, ডা. সাহা দৃঢ় প্রত্যয়ের সুরে একথা বলেন।

এদিন তিনি ত্রিপুরার তরুণ ছেলে-মেয়েদের যারা যোগব্যায়াম অনুশীলন করছেন এবং রাষ্ট্রের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তাঁদের প্রশংসায় মুখর হয়েছেন। তাই, সবাইকে যোগব্যায়াম করার জন্য উৎসাহিত করে মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা বলেন, প্রধানমন্ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আমেরিকায় থাকবেন এবং সেখান থেকে তিনি যোগে অংশ নেবেন। সাথে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিদিন নির্দেশনা প্রদান করেন এবং তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে ভারত উন্নতি করছে। ভারত শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীর কারণেই সমগ্র বিশ্ব দ্বারা স্বীকৃতি পেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্বীকার করেছেন, প্রাথমিকভাবে কিছু মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে আপত্তি করেছিল। কিন্তু তারা শীঘ্রই বুঝতে পেরেছিল যে এটি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় এবং তারপর থেকে তারাও উদযাপনে যোগ দিয়েছে। তিনি এদিন আশ্বস্ত করেছেন, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টির ঘাটতি সহ সমস্যাগুলি উপাচার্য অবিলম্বে সমাধান করবেন। 

উপাচার্য ফ্যাকাল্টি স্বল্পতাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তা তুলে ধরেছেন। আমাদের সরকার এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আমরা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভারত জুড়ে স্বীকৃত করার আকাঙ্খা করি। অন্যান্য বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের রাজ্যে শাখা স্থাপনে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং আমি নিশ্চিত যে অদূর ভবিষ্যতে ত্রিপুরা একটি শিক্ষার হাব হয়ে উঠবে, জোর গলায় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।