কলকাতা, ১৩ জুন (হি. স.) : ঠিক কোন কারণে তাঁকে তদন্তে তলব করা হল, সে ব্যাপারে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে (যেখানে ইডির দফতর রয়েছে) তলব করা হয়েছিল অভিষেককে। গত ৮ জুন এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে অভিষেক জানিয়েছিলেন, তিনি ইডি দফতরে হাজিরা দেবেন না। এদিন ইডিকে ১৫ পাতার চিঠি পাঠিয়ে সে কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানালেন অভিষেক। এই সঙ্গে, তাঁকে কেন তদন্তে ডাকা হল, সে ব্যাপারে ইডির কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন অভিষেক।
তদন্তে তাঁর কাছে যে সব নথি চাওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে গত ২৯ মার্চ একটি সভায় তাঁর বক্তব্যের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, এই সংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যেই সরকারি দফতরে রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন অভিষেক।
গত ২৯ মার্চ ধর্মতলায় শহিদ মিনারের সভা থেকে অভিষেক দাবি করেছিলেন, হেফাজতে থাকার সময় মদন মিত্র, কুণাল ঘোষকে তাঁর নাম নিতে বলেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর পর পরই রাজ্যে শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূলের বহিষ্কৃত যুবনেতা কুন্তল ঘোষ দাবি করেন যে, অভিষেকের নাম বলার জন্য তাঁকে ‘চাপ’ দিচ্ছে ইডি, সিবিআই।
এই সংক্রান্ত অভিযোগ জানিয়ে নিম্ন আদালতে চিঠিও দেন কুন্তল। পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠান কলকাতার হেস্টিংস থানাতেও। তারপর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, প্রয়োজনে সিবিআই বা ইডি অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। সেই একই নির্দেশ বহাল রাখেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিন্হাও। তার পরেই অভিষেককে গত ২০ মে ডেকেছিল সিবিআই। সে দিন সাড়ে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অভিষেককে। তারপর এই তদন্তে তৃণমূল নেতাকে তলব করে ইডি।

