মতুয়াদের ২ গোষ্ঠীর বিবাদে বন্ধ করা হল মূল মন্দির, ভাঙাল তোরণ, ঢুকতে পারলেন না অভিষেক

বনগাঁ, ১১ জুন (হি. স.) জোয়ার কর্মসূচিতে রবিবারউত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে মতুয়াদের দুই গোষ্ঠীর বিবাদে ঠাকুরবাড়ির মূল মন্দিরে বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে ঢুকতে পারলেন না অভিষেক ।

রবিবার সকাল থেকেই ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে অশান্তির বাতাবরণ ছিল। বেলা যত গড়িয়েছে, ততই মতুয়া সম্প্রদায়ের নিজেদের বিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বনগাঁর ঠাকুরবাড়ি ও মন্দির। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নবজোয়ার কর্মসূচি নিয়ে ঠাকুরনগর যাওয়ার আগেই তুমুল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণ করা নিয়ে সেসময় পথে নেমেছিলেন মতুয়ারা। অভিষেকের ঠাকুরবাড়ি আসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভুল উচ্চারণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ফের বিক্ষোভ দেখান মতুয়াদের একাংশ। মতুয়ারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে মন্দিরের মূল দরজা বন্ধ করে দেন। শুধু তা-ই নয়, ঠাকুরনগর বন্ধ করা হয় মূল মন্দির, ভাঙা হয় তোরণ। মন্দির বন্ধে ঠাকুরনগরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। তাতে অভিষেক গিয়ে মূল মন্দিরে ঢুকতে পারেনননি। তিনি মন্দিরের বাইরে থেকে প্রণাম সেরে বেরিয়ে যান । পরে পুজো দেন পাশের মন্দিরে। যান বীণাপানি দেবীর ঘরে। মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়মা প্রয়াত বীণাপানি দেবীর ঘরে গিয়ে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান।
এদিন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেরনোর সময় উঠল চোর স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলতে থাকেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চোর।” কেউ আবার সুর চড়িয়ে বলেন, “কয়লা চোর, গরু চোর।” ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

অন্যদিকে আজ শান্তনু অনুগামীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত হন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াও। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ শান্তনু ঠাকুরের। ঘটনাস্থলে যান বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। পাল্টা তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে।