হাফলং (অসম), ৩১ মে (হি.স.) : প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক বছর পরও হাফলং এবং নিউ হাফলঙের মধ্যে সংযোগী রাস্তা নির্মাণে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, গত এক বছর থেকে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে হাফলং শহর থেকে নিউহাফলং স্টেশনে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগী রাস্তাটি।
২০২২ সালের ১৪ মে অসমের অন্যতম এই পাহাড়ি জেলা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছিল। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের দরুন পাহাড়ি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজ রেলপথ। এমন-কি বন্ধ হয়ে পড়েছিল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের দরুন লামডিং-শিলচরের মধ্যবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নিউহাফলং স্টেশনটি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি হাফলং শহর থেকে নিউহাফলং স্টেশনে যাওয়ার সংযোগী রাস্তা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। বন্ধ হয়ে পড়েছিল সড়কটি। ভূমিঙ্খলনের দরুন সড়কটির বিভিন্ন অংশ সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছিল। তবে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ রেকর্ড সময়সীমা প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে পাহাড় লাইনে রেল পরিষেবা সচল করে তুলেছিল। এমন-কি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নিউহাফলং স্টেশনকে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল এনএফ রেল।
কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় সংঘটিত হওয়ার এক বছর হয়ে যাওয়ার পরও হাফলং শহর থেকে নিউহাফলং স্টেশনের সংযোগী পথটি নির্মাণে গুরুত্ব দেয়নি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ। লামডিং-বদরপুরের মধ্যে একমাত্র নিউহাফলং স্টেশন হচ্ছে একটি বড় স্টেশন এবং এই স্টেশনে শিলচর-আগরতলা তথা বহিঃরাজ্যে যাতায়াতকারী প্রায় প্রতিটি ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে। প্রতিদিন এই স্টেশনে সহস্রাধিক রেলযাত্রী আসা-যাওয়া করেন। যার দরুন নিউহাফলং স্টেশনে যাওয়ার এই পথটি রেলযাত্রীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।
অথচ এখনও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই রাস্তাটি। যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এই বেহাল রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে রেল যাত্রীদের। তবে রেল কর্তৃপক্ষ এই সড়কপথকে সংস্কার না করলেও মাঝে-মধ্যে চলাচলের উপযোগী রাখতে অটোচালকরা নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি সংস্কার করে রেলযাত্রীদের পরিষেবা দিচ্ছেন।