খড়গপুরে লাঠি-শাবল হাতে দিলীপ ঘোষের বাড়ি ঘেরাও কুড়মিদের

খড়গপুর, ১৭ মে (হি. স.) : খড়গপুরে লাঠি-শাবল হাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়ি ঘেরাও করলেন কুড়মি সমাজের মানুষরা। হুঁশিয়ারি আগে থেকেই ছিল। সম্প্রতি দিলীপবাবু ‘কাপড় খুলে দেওয়া’ সংক্রান্ত যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অজিত মাহাতোর নেতৃত্বে বুধবার দুুপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতির বাড়িতে চড়াও হয় কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, দিলীপ ঘোষ বাড়িতে ছিলেন না। তিনি রয়েছেন রাজধানী দিল্লিতে। আজই তাঁর খড়গপুরের বাড়িতে ফেরার কথা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এরই মধ্যে বুধবার দুপুরে দিলীপের বাড়ি ঘেরাও কুড়মিদের। প্রসঙ্গত, এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল রবিবার। সেদিন জঙ্গলমহল এলাকায় এক দলীয় কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথে দিলীপের গাড়ি আটকে দাঁড়িয়েছিল কুড়মি আন্দোলনকারীদের একাংশ। তাঁরা দিলীপ ঘোষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সাংসদ কুড়মিদের জন্য কী করেছেন। তখন সাংসদ বলেছিলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে কুড়মিদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছেন। আর এরপরই আন্দোলনকারীরা বলেছিলেন, কাকে কাকে তিনি সাহায্য করেছেন সেই নাম প্রকাশের জন্য। সেই ঘটনার পর প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেছিলেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে কাপড় খুলে দেবো আমি। দিলীপ ঘোষের পিছনে যেন লাগতে না আসে।’ আর সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই বুধবার অজিত মাহাতোর নেতৃত্বে দিলীপ ঘোষের বাড়ি ঘেরাও আন্দোলনকারীদের। বাংলোর বাইরের গেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাংলোর ভিতরেও তাণ্ডব চলেছে। বেশ কিছু টব ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে পুলিশ। অজিত মাহাতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে যাবে।

এদিকে এই ঘটনার পর দিল্লি থেকে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ। বললেন, ‘ কিছু মাতাল আমার বাড়ির সামনে হাঙ্গামা করছে। যারা বলেছিল ৫০ হাজার লোক নিয়ে আসবে, তারা ২০০ লোক নিয়ে এসেছে। কারণ, তাদের পিছনে লোক নেই। তারা জানে, দিলীপ ঘোষের থেকে টাকা নিয়েছে। তাই লজ্জা পাচ্ছে। এখন টাকা ফেরত দিতে চাইছে। অজিত মাহাতোর দম নেই ২০০ লোক নিয়ে আসার। উনি এত বড় নেতা, ওনাকে কেউ মানেন না ওনার সংগঠনে। বাইরের থেকে লোক নিয়ে এসেছে। অজিত মাহাতো যদি কুড়মি সমাজের জন্য সত্যিই কাজ করেন, তাহলে ভাল লোকদের নিয়ে কাজ করুন। তৃণমূলের দালালি করবেন না। পুলিশের লোক ওখানে আছে, তাঁরা তাঁদের কাজ করছেন। আমাদেরও লোক আছে, আমরা চাইলেই আটকাতে পারতাম।’