হুমকি উপেক্ষা করে মঙ্গল শোভাযাত্রায় জনজোয়ার ঢাকায়, রমনায় বিশেষ সতর্কতা

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (হি. স.) : চিরকুট পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল নববর্ষ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা যাবে না। তবে তা উপেক্ষা করেই নামল আগর্হীদের ঢল। এবছরের বিষয় ছিল, ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’। হিংসা ও অস্থিরতা’র ‘দাবানল’ নেভানোই ছিল এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার ‘প্রতিপাদ্য’।

প্রতি বছর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপরে তৈরি হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার বিষয়। নববর্ষের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে সকাল ৯টা ৮ মিনিটে বের হয় শোভাযাত্রা। উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ প্রমুখ।

এদিনের শোভাযাত্রা ঘেরা ছিল কড়া নিরাপত্তায়। শান্তি কামনায় একত্রে ‘সওয়াল’ করলেন শান্তিকামী মানুষ। জাতীয় পতাকা, চারুকলা মুখোশ সহ বিভিন্ন প্রতিকৃতিতে ভরে ওঠে ‘জনজোয়ার’। কারও কপালে, মুখে লেখা ‘এসো হে বৈশাখ’, ‘শুভ নববর্ষ’। মহিলাদের পরনে ছিল বৈশাখী শাড়ি, পুরুষদের পরনে ছিল পাঞ্জাবি, ধুতি, লুঙ্গি। মাথায় বাঁধা ছিল গামছা। এদিনের জনসমুদ্রে হারিয়ে গেল ‘হুমকি’।

প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হয় ওপার বাংলায়। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে রমনার বটমূলে আয়োজন করা হয় নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ পুলিশ। শুক্রবার রমনার বটমূলে নববর্ষের অনুষ্ঠান বিকেল ৪টের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে নির্দেশিকা জারি করে করেছে ঢাকার পুলিশ। বৃহস্পতিবারই অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে দেখেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

রমনা বটমূলে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করার পাশাপাশি গোটা বাংলাদেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, রবীন্দ্রসরোবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ পুলিশ মোতায়েন থাকছে। রমনাকেন্দ্রিক মোট ৯টি গেট থাকবে। এর মধ্যে চারটি গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে। বাকি ৫টি গেট দিয়ে প্রবেশ-বাহির হওয়া যাবে। প্রতিটি গেটে পুলিশ, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। প্রত্যেককে তল্লাশি করে রমনায় প্রবেশ করানো হবে।

শুক্রবার বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষে রমনা বটমূলে ছায়ানটের সঙ্গীতের মাধ্যমে দিনটির বরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার জন্য ২০০১ সালে জঙ্গি গোষ্ঠী এ রমনা বটমূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। তাতে অনেক নিরীহ লোকের প্রাণহানি ঘটে। তার পর থেকে ডিএমপি প্রতিবছর রমনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রসরোবর ও ঢাকার যেসব স্থানে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান হয়, সেসব স্থানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

এর অংশ হিসেবে রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানস্থলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রমনা পার্ক সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ৪টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করে রমনা ত্যাগ করতে হবে। চারটার পর আর কাউকে রমনায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।