গুয়াহাটি, ২৯ ডিসেম্বর (হি.স.) : বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাযুক্ত স্টেশন হিসেবে সাজিয়ে তুলতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের প্রস্তাবিত পুনরুন্নয়নের জন্য আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে প্রধানমন্ত্রী ৮৮.১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আমবাড়ি-ফালাকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি এবং নিউ ময়নাগুড়ি-গুমানিহাট ডাবল লাইন প্রকল্প জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন।
এ সম্পর্কে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে বলেন, নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনকে বিশ্বমানের সুবিধাযুক্ত দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রেন টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যার মধ্যে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জন্য টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রিটেইল, ক্যাফেটারিয়া ও বিনোদনের ব্যবস্থার পাশাপাশি একই স্থানে সমস্ত ধরনের যাত্রী সাচ্ছন্দ্যের সুবিধা সহ প্রশস্ত রুফ প্লাজা, কনকোর্সের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থাযুক্ত হিসেবে স্টেশনটি সাজিয়ে তোলা হবে। সুষ্ঠু গাড়ি চলাচলের জন্য বিল্ডিঙের সামনে পোডিয়াম পার্কিং সহ পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা করাও হবে। স্টেশনে ১২টি লিফ্ট ও ১০টি এসকেলেটর এবং দিব্যাঙ্গদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা থাকবে।
তিনি জানান, যাত্রীদের আগমন ও প্রস্থানের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। উচ্চপ্রযুক্তির সংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি, গাড়ি চলাচলের জন্য পথ খোঁজার চিহ্ণ, পর্যাপ্ত অপেক্ষার স্থান ও যাত্রীদের সুরক্ষা এবং আরামের জন্য সুবিধা প্রদান করা হবে। স্টেশন বিল্ডিঙে সৌরশক্তি, জল সংরক্ষণ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মতো সবুজ প্রযুক্তি থাকবে। স্টেশনের সামগ্রিক নির্মাণ এলাকা থাকবে প্রায় ৩৭.০৪০ বর্গমিটার। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের পুনরুন্নয়নের জন্য সমগ্র কাজের আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৩৩৭.৪২ কোটি টাকা, যা ৩০ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের পুনরুন্নয়নের ফলে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি সিকিমেরও ভ্রমণ, পর্যটন ইত্যাদি সহ স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের আরও সহায়ক হবে।
আমবাড়ি ফালাকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি ও নিউ ময়নাগুড়ি-গুমানিহাট ডাবল লাইন প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে ৮৮.১৭ কিলোমিটার অংশে প্রসারিত, যা সম্পূর্ণ হয়েছে আনুমানিক ১৪৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে। এই সেকশনে ২৪টি মেজর ব্রিজ, পাঁচটি রোড ওভার ব্রিজ এবং ১১টি স্টেশন রয়েছে। এই ডাবল লাইন ট্রেন পরিচালনার গতি বৃদ্ধি করবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে ট্রেন পরিচালনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটবে। এটি অতিরিক্ত পরিচালন ক্ষমতা উৎপন্ন করবে এবং চলাচলের সময় হ্রাস করে পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল ত্বরান্বিত করবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সবগুলি রাজ্যের জন্য এই ডাবল লাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা এই অঞ্চলের স্থানীয় উদ্যোগকে লাভাম্বিত করবে এবং সংলগ্ন অঞ্চলের কৃষি শিল্পকেও উৎসাহিত করবে।
এছাড়া, আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর হাওড়া স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে একটি নতুন বন্দেভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন। এটি হবে পূর্ব ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রথম বন্দেভারত এক্সপ্রেস। উদ্বোধনের আগে বন্দেভারত ট্রেনের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দেভারত এক্সপ্রেস ট্রেন উভয় দিক থেকে বুধবার ছাড়া সপ্তাহে ছয়দিন চলাচল করবে। ২২৩০১ নম্বর হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দেভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটি হাওড়া থেকে ০৫.৫৫ ঘণ্টায় রওয়ানা দিয়ে একই দিনে ১৩.২৫ ঘণ্টায় নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছবে। ফেরত যাত্রার সময় ২২৩০২ নম্বর নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া বন্দেভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ১৫.০৫ ঘণ্টায় রওয়ানা দিয়ে একই দিনে ২২.৩৫ ঘণ্টায় হাওড়া পৌঁছবে, জানান উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে।

