আগরতলা, ১৬ ডিসেম্বর (হি. স.) : ত্রিপুরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তীর্থস্থান। এজন্যই মহান বিজয় দিবসে সমগ্র ত্রিপুরবাসীর প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ সহকারি হাই কমিশনার আরিফ মহম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে ত্রিপুরার সর্বস্তরের মানুষ পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। তাঁদের সকলকে আজকের দিনে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। এদিকে, লিচুবাগানস্থিত এলবার্ট এক্কা পার্কে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের পক্ষে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব উপস্থিত থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেছেন।
আজ এলবার্ট এক্কা পার্কে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ত্রিপুরার অবদানও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ণ সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আজকের সেনাবাহিনীর শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এদিন এলবার্ট এক্কা পার্কে শহিদ বেদীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শহিদ জওয়ানদের প্রতি বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের আধিকারিকগণও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এদিকে, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। এদিন সকালে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মহম্মদ। এরপর তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ এবং শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন।
এদিন বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মহম্মদ বলেন, ১৯৭১ সালের আজকের দিনে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ট অর্জন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছিল। তাই আজকের দিনটি আমরা মহান বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছি। তাঁর কথায়, ত্রিপুরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তীর্থস্থান। এই রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছেন। আজকের দিনে তাঁদের সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। তিনি তত্কালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, বিজেপি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ত্রিপুরার তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। হিন্দুস্থান সমাচার/সন্দীপ

