কার্গিল, ২৪ অক্টোবর (হি.স.): বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও অন্যথা হল না। দেশের সাহসী জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালে কার্গিলে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী, সেখানে দেশের সাহসী সৈনিকদের সঙ্গে আলোর উৎসব দীপাবলি উদযাপন করেছেন তিনি। এদিন সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের সাথে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমার কাছে বছরের পর বছর ধরে আপনারাই তো পরিবার। আমার দীপাবলির মাধুর্য আপনাদের মধ্যে জেগে ওঠে, আমার দীপাবলির আলো আপনাদের মধ্যে থাকে। আপনাদের মাঝে থেকে দীপাবলি উদযাপন করা সৌভাগ্যের।”
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “কার্গিলের এই বিজয়ী ভূমি থেকে আমি দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। পাকিস্তানের সঙ্গে এমন একটিও যুদ্ধ হয়নি যেখানে কার্গিল বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করেনি। দীপাবলি মানে ‘সন্ত্রাসের সমাপ্তির উৎসব’ এবং কার্গিল তা সম্ভব করেছে। কার্গিলে আমাদের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।” সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি জানি, আপনারা অবশ্যই গর্ব বোধ করবেন যে ভারত পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে এবং গত ৮ বছরে পঞ্চম অবস্থানে এসেছে। প্রতিটি নাগরিক দেশেকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। গ্রামে ব্রডব্যান্ড সংযোগ থেকে শুরু করে দেশের ৮০ হাজারের বেশি স্টার্টআপ হোক অথবা ইসরো-র স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ – সবক্ষেত্রে ভারত এগিয়ে চলেছে। সীমান্তের সকলেই এই কৃতিত্বের জন্য গর্বিত।”
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আপনারা সবাই যেমন সীমান্তে আমাদের রক্ষা করছেন, তেমনই আমরা দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির মতো অপশক্তির বিরুদ্ধে কাজ করছি। একসঙ্গে আমরা দেশকে শক্তিশালী করব। বর্তমানে জনভাগীদারীর সঙ্গে আমাদের দেশ সবকা সাথ, সবকা বিকাশের চেতনা নিয়ে প্রতিটি সামাজিক অনিষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। প্রযুক্তির যুগে আমরা যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত, নতুন প্রশিক্ষণ, নতুন সংস্কার এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৮ বছরে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের উপর মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছি। আমরা মেয়েদের জন্য বাহিনীতে পদ খুলেছি। নারীশক্তি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করবে। দেশের সৈন্যদের সুবিধার্থে আমরা সীমান্ত এলাকায় সীমাহীন সংযোগ সহ হাই-টেক পরিকাঠামো উন্নয়ন করছি।”
মোদী আরও বলেছেন, “আত্মনির্ভর ভারত হল নতুন ভারতের উন্নয়নের মূল সুযোগ। ‘স্থায়ী কমিশনে’ মহিলা অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা আমাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি আশীর্বাদ হয়েছে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আত্মনির্ভর হওয়ার সংকল্প নিয়েছে। আমাদের জওয়ানরা যখন স্বদেশীয় অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করবেন তখন তারা শুধুমাত্র গর্ববোধই করবে না, বরং শত্রুকে পরাস্ত করার জন্য বিস্ময়ের উপাদানও থাকবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “যদি কেউ আমাদের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানোর সাহস করে, আমাদের তিন সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দেবে।”