কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : নিয়োগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অনিয়মের মাঝে আচমকা একটি অভিযোগ আলোড়ণ তৈরি করেছে। অভিযোগকারী জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি তাঁর বাবার টাকা থেকে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা দিয়ে বেআইনিভাবে চাকরি করে দিয়েছিলেন স্ত্রী পাপিয়াকে। এর পর স্ত্রী আলাদা হয়ে যান। এই তর্ক নিয়ে এখন রীতিমতো সরগরম গোটা রাজ্য।
জয়ন্তবাবু তদন্তকারীদের জানান, পাপিয়া ২০১২ সালে টেট পাশ করতে পারেননি। ২০১৪-য় টেটে বসেননি। ২০১৫-র অগস্টে জয়ন্তর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী দীননাথ বিশ্বাসের পেনশন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে চন্দন মণ্ডল অর্থাৎ বাগদার ‘সৎ রঞ্জন’-কে দেওয়া হয়। তার বিনিময়েই ২০১৭ সালে নদিয়ার হবিবপুরের পানপাড়া জুনিয়র প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পান পাপিয়া।
অভিযোগ অস্বীকার করে অবশ্য পাপিয়াদেবী দাবি করেছেন, “নিয়ম মেনেই চাকরি পেয়েছি আমি। প্রতিশোধ নিতে স্বামী এই সব মিথ্যে রটনা করছেন। আমি নির্দোষ। ২০১২ সালে আমার ছেলে একদম ছোট ছিল। পরীক্ষায় আমি বসিনি। ২০১৪ সালে ছেলেকে সঙ্গে করে নিয়ে আমি পরীক্ষা দিয়েছি।”
অভিযুক্তর দাবি, ”স্বামীর সঙ্গে আমার বহুদিন ধরে বিভিন্ন কারণে অশান্তি, অনেকগুলো মামলা চলছে। আজ তিনি যে অভিযোগ করছেন, সেই ব্যাপারে আমি সত্যি কিছু জানি না। সে কাকে টাকা দিয়েছে আমি জানি না। আমি পরীক্ষা দিয়েছি, কাউন্সিলিং হয়েছে, সাক্ষাৎকার হয়েছে, তার পর চাকরি পেয়েছি। এতদিন পর এসব কথা কেন বলা হচ্ছে তা জানি না। তার সঙ্গে আমার গোলমাল বলে? আমার কাছে সমস্ত নথি রয়েছে। সিবিআই চাইলেই জমা দেব’’।
সিবিআইয়ের এক আধিকারিক সংবাদমাদ্যমে জানান, “আমরা শীঘ্রই অভিযুক্তর সঙ্গে কথা বলে তাঁর দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ নেব। কমিশনের কাছেও জানতে চাইব।”