করিমগঞ্জ (অসম), ২৯ আগস্ট (হি.স.) : দক্ষিণ করিমগঞ্জের সীমান্ত এলাকা কাবল দলগ্রামে ভিনধর্মী এক নাবালিকা-ধর্ষণ ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শেষপর্যন্ত ঠাঁই হয়েছে জেল হাজতে। নিলামবাজার পুলিশ সোমবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার সুলেমান উদ্দিন, রহিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিনকে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের নির্দেশে আসামীদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল পাণ্ডা ছইর আলি এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। পুলিশ ছইরের খোঁজে জোরদার তাল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ করিমগঞ্জ মণ্ডল বিজেপি ও বিশ্বহিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও অপহরণ কাণ্ডের মূল খলনায়ক ছইর আলিকে অবিলম্ব গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। নির্যাতিতা নিজেই তাঁর সঙ্গে সংগঠিত ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে গতকাল নিলামবাজার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছিল। ছইর আলি, সুলেমান উদ্দিন, রহিম উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, এই চার দুষ্কৃতীর নাম অভিযুক্তের তালিকায় উল্লেখ করেছিল নির্যাতিতা।
পুলিশ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৬৬/৩৭৬(বি) ধারায় ১৩০/২২ নম্বরে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ছইর আলি ফেরার। শীঘ্রই ছইর পুলিশের জালে পড়বে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান ওসি দীপজ্যোতি মালাকার।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে কায়স্থগ্রামের এক ভিনধর্মী নাবালিকাকে ছলচাতুরি করে কাবল দলগ্রামের ছইর আলি, সুলেমান উদ্দিন, রহিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন অল্টো গাড়িতে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। কোনও এক গোপন স্থানে এই সব নরপিশাচরা নাবালিকাকে লবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিয়ে যায় তকে। কিন্তু নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নিলামবাজার পুলিশের দ্বারস্থ হন।
ওসি দীপজ্যোতি মালাকারকে বিস্তারিত ঘটনা জানিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য কাতর আবেদন জানান পরিবারের সদস্য সহ গ্রামবাসীরা। ওসি তৎক্ষণাৎ দলবল নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। নাবালিকার কাছে দুষ্কৃতীদের পরিচয় জেনে রবিবার ভোররাতেই সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন দুষ্কৃতীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আজ অভিযুক্তদের ফৌজদারি আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে আসামীদের ১৪ দিনের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে সচেতন মহল করিমগঞ্জ জেলায় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, করিমগঞ্জ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা অপরাধ জগতের এক মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়ে পড়েছে। সীমান্ত এলাকা থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফের হাতে তুলে দিলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লাগাম লাগেনি। শ্রীদুর্গাপুর, বিলবাড়ি, কাবল, দলগ্রাম, হিজিম সহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে দিনের বেলা গাড়ি চলাচল তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু রাতের আঁধার নামতেই সীমান্ত এলাকায় অগণিত ছোট চার চাকার বাহনের মেলা লেগে যায়। গ্রামীণ সড়কের পাশে বসবাসরত সীমান্তবাসীরা-তো রাতভর গাড়ি চলাচলের কারণে শান্তিতে ঘুমোতে পারেন না বলেও অভিযোগ করেন।
কী কারণে রাতের অন্ধকারে এত গাড়ি চলাচল করে? বিএসএফ ও পুলিশের কোনও তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় না বলেও জানান সীমান্ত এলাকার জনগণ।

