আগামীকাল তিরঙ্গা নিয়ে গান্ধী মূর্তির প্রাঙ্গণ থেকে হবে পদযাত্রা : তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী

আগরতলা, ১১ আগস্ট : ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১২ আগস্ট বিকেল ৩টায় তিরঙ্গা নিয়ে এক পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই পদযাত্রাটি আগরতলার সার্কিট হাউসের গান্ধী মূর্তি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে উজ্জয়ন্ত প্যালেস প্রাঙ্গণে এসে শেষ হবে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এ সংবাদ জানিয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী জানান, এই পদযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, সাংসদগণ, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ পুরনিগমের সকল সদস্য সদস্যাগণ, প্রশাসনিক স্তরের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ এবং বিভিন্ন অংশের নাগরিকগণ অংশ নেবেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করা হচ্ছে। আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে সারা দেশের সাথে রাজ্যেও আগামী ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি পালন করা হবে। এজন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে নোডাল দপ্তর হিসেবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর কাজ করছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচিতে রাজ্যে ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্ব-সহায়ক দল, টিআরএলএম, টিইউএলএম, পূর্বাশা ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি অধিকারের গান্ধীঘাটস্থিত প্রধান কার্যালয় থেকে গত ৬ আগস্ট থেকে জাতীয় পতাকাগুলি বিভিন্ন জেলাগুলিতে সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকাগুলি বিক্রয়ের জন্য রাজ্যে ৩ হাজার ৩৭২টি বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ১৬৯টি, ঊনকোটি জেলায় ৩১০টি, ধলাই জেলায় ২৪৭টি, খোয়াই জেলায় ২৯৯টি, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ৭৫২টি, সিপাহীজলা জেলায় ৪০০টি, গোমতী জেলায় ৬৭৬টি ও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ৫১৯টি।

সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, রাজ্যে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি সফল করে তুলতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, আধাসামরিক বাহিনী কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকারের অধীন কর্মচারি সংগঠনগুলির সাথে বৈঠক করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয়, রাজ্য ও জেলাস্তরে বৈঠক হয়েছে, রাজ্যে জেলা পর্যায়ে এবং শহর ও নগর শাসিত সংস্থা, পঞ্চায়েতরাজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সভা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এছাড়াও হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি সফল করে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই গত ২৫ জুলাই ও ১ আগস্ট সভা করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি সফল করে তুলতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে সোশাল মিডিয়ায়, স্থানীয় টিভি চ্যানেলে প্রচার অভিযান, ওয়েবসাইটে মুখ্যমন্ত্রী এবং তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর আবেদন, ৩টি প্রেরণামূলক ভিডিও সম্প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে ছোট ছোট ভিডিও ও পোস্টার দেওয়া, এফএম রেডিও ও এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া, জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধি প্রচার করা ইত্যাদি। এছাড়াও স্কুল ও মহাবিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষা দপ্তর থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ফ্ল্যাক্স লাগানো হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনে স্টিকার লাগানো হয়েছে, স্টেট হেড কোয়ার্টার ও বিভিন্ন জায়গায় সেলফি পয়েন্ট করা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রিট অ্যানাউন্সমেন্ট ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশপ্রেমের ভাবনা জাগিয়ে তোলার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব অভিষেক চন্দ্রা ও অধিকর্তা রতন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *