আগরতলা, ১১ আগস্ট : রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে। কারণ সঠিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে ভালো খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর ক্রীড়াক্ষেত্রের বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতাও এসেছে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়া দপ্তরের বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, ক্রীড়া দপ্তর রাজ্যে ১০টি ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফ তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গোমতী জেলার চন্দ্রপুরে একটি ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেববর্মা স্মৃতি স্টেডিয়ামে খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাথলেটিক্সের জন্য সিন্থেটিক টার্ফের কাজ চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এর কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এই সিন্থেটিক টার্ফের ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠে খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এছাড়াও পানিসাগর আঞ্চলিক শারীর শিক্ষণ কলেজে খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সুইমিং পুলের নির্মাণ কাজ চলছে। এর ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, বিগত দিনে অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল সহ বিভিন্ন খেলার জন্য রাজ্যে একটি বিশ্বমানের স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা ছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার এই লক্ষ্যে দশরথ দেব স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজানোর জন্য ৭০ কোটি টাকার ডিপিআর তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে ধরার লক্ষ্যে রাজ্যের ৮টি জেলায় ১টি করে মাল্টিপারপাস ইন্ডোর হল নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি মাল্টিপারপাস ইন্ডোর হলের জন্য ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সাই) থেকে একটি প্রতিনিধিদল স্থানগুলি পরিদর্শন করে গেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে রাজ্য সরকারও ক্রীড়া দপ্তরকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করছে। রাজ্যের ৪টি স্থানে ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফ স্থাপনের জন্য স্পেশাল অ্যাসিস্টেন্ট থেকে ২০ কোটি টাকা ক্রীড়া দপ্তরকে প্রদান করেছে। সেগুলি হলো – উমাকান্ত ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফ, জিরানীয়ার শচীন্দ্রনগর কলোনীর ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফ, মোহনপুরের তুলাকোনায় ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফ এবং বিলোনীয়ার স্কুল মাঠের ফুটবল সিন্থেটিক টার্ফ। প্রতিটির জন্য ৫ কোটি টাকা করে ব্যয় হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মঞ্জুরি দিয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে দশরথ দেব স্টেডিয়ামে একটি হকির সিন্থেটিক টার্ফ, জম্পুইজলায় সিন্থেটিক ফুটবল টার্ফ এবং পানিসাগরে অ্যাথলেটিক্সের জন্য সিন্থেটিক টার্ফ তৈরি করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ৫০টি ওপেন জিম চালু করা হবে। এরজন্য রাজ্য সরকার স্পেশাল অ্যাসিসটেন্স থেকে ৫ কোটি টাকার মঞ্জুরি দিয়েছে। পানিসাগর আঞ্চলিক শারীর শিক্ষণ কলেজে এনইসি প্রকল্পে ৪ কোটি ৬৪ টাকা ব্যয়ে পুরুষদের জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হোস্টেল নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা সম্প্রতি ১০০ জন জুনিয়র ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের মঞ্জুরি দিয়েছে। শীঘ্রই এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ক্রীড়া দপ্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে আগামী ১৪ আগস্ট আগরতলা টাউন হলে বিগত দিনে রাজ্যের খেলাধুলায় অবদান রেখেছে এমন বিশিষ্ট খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন রাজ্যের এমন বীর শহীদদের পরিবারকেও ঐদিন সম্মাননা জানানো হবে বলে ক্রীড়ামন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী ও অধিকর্তা সুবিকাশ দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন।
2022-08-11