আগরতলা, ১১ জুলাই (হি. স.) : করোনার দৈনিক সংক্রমণে ক্রমাগত বৃদ্ধিতে আবারও মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করেছে ত্রিপুরা সরকার। আগামীকাল থেকে সকলকেই মাস্ক পরিধান করতেই হবে। আদেশ অমান্য হলে এখনই জরিমানা করবে না প্রশাসন। কারণ সপ্তাহব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দেবে ত্রিপুরা সরকার। পাশাপাশি ভীড় এলাকায় গণ হারে করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যও জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। অবশ্য, করোনা মহামারী জেনেও কিছু মানুষের দায়িত্ববোধের অভাব এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, গত এক সপ্তাহে ৩৭ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলছে না। তাঁরা মোবাইল নম্বর ভুল দেওয়ায় সংক্রমণের খবর তাঁদের দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, তাঁরা আরও সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন, এমনটা মনে করা ভুল হবে না। স্বাস্থ্য দফতর তাঁদের দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বলে আশ্বস্ত করেছেন কোবিড স্টেট সার্ভেইলেন্স অফিসার ডা: দ্বীপ কুমার দেববর্মা।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজস্ব দফতরের অতিরিক্ত সচিব বলেন, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যভিত্তিক টাস্ক ফোর্স মুখ্য সচিবের পৌরহিত্যে বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। তাতে, মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কোভিড বিধি সকলকে মানতে হবে এবং ভীড় এলাকায় গণহারে করোনার নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ দ্রুত চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজনীয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিন স্টেট কোভিড সার্ভেইলেন্স অফিসার ডা: দ্বীপ কুমার দেববর্মা বলেন, ৮-৯ মাস ত্রিপুরায় আবারও করোনার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ৪ জুলাই দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ১.৭৯ শতাংশ। অথচ ১০ জুলাই সেই দৈনিক সংক্রমণের হার বেড়ে হয়েছে ৭.১২ শতাংশ। তাঁর দাবি, ২০২১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে করোনার প্রকোপ ক্রমশ কমেছে এবং দীর্ঘ সময় সংক্রমণ মুক্ত থেকেছে ত্রিপুরা।
তাঁর কথায়, আবারও আগরতলা পুর নিগম এলাকা করোনার সংক্রমণে এপিসেন্টার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ, সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় রয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশই পুর নিগম এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে ১৩১ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। তাঁদের ৮২ জন পচিম ত্রিপুরা জেলার নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তিনি জানান, পশ্চিম ত্রিপুরা বাদে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রয়েছেন সিপাহিজলা জেলায়। তাঁর দাবি, সংক্রমণের স্বভাব চিহ্নিত করার জন্য ভীড় এলাকায় নমুনা পরীক্ষার হার বাড়ানো হবে। তাতে, বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক চিত্র উঠে আসবে।
তাঁর দাবি, ১৩১ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৮ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। বাকি সংক্রমিতদের বাড়িতেই চিকিত্সা চলছে। তিনি এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, তাঁরা মোবাইল ভুল দিয়েছেন। ফলে, তাঁদের করোনার নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণ পাওয়ার পর তাঁদের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। ডা: দ্বীপ বলেন, ওই ৩৭ জনকে খুঁজে বের করার জন্য স্বাস্থ্য দফতর সমস্ত চেষ্টা করছে। শীঘ্রই তাঁদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
এদিন তিনি জানান, স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী ১৩১ জন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন কোভিডের টিকার প্রথম ডোজ, ৭৪ জন দুইটি ডোজ নিয়েছেন এবং ১১ জন এখন টিকা নেননি। তাঁর কথায়, সকল বয়সের মানুষের মধ্যেই করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তিনজন করোনা আক্রান্ত ০ থেকে ১০ বছর বয়সীদের মধ্যে রয়েছে, সতর্ক করে দেন তিনি। এদিন তিনি জানান, বুস্টার ডোজ নিয়ে মুখ্য সচিব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি লেখবেন।তবে, এখনই ত্রিপুরায় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য কোন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে না বলে ডা: দ্বীপ জানিয়েছেন। কারণ, সাম্প্রতিক করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ভ্রমণ ইতিহাস পাওয়া যায়নি। এদিন স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, এখনই সচেতন না হলে ত্রিপুরায় করোনার প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নেবে।