দুর্গাপুর, ৮ জুলাই (হি. স.) ফের ট্রেনে যাত্রী সুরক্ষায় প্রশ্ন উঠল। লোকাল ট্রেনে মহিলাকে উত্যাক্ত করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল অন্ডাল জিআরপি। ট্রেনের মধ্যে একের পর এক মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তায় উঠল প্রশ্ন। ঘটনাকে ঘিরে রীতি মতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রেলের বর্ধমান-আসানসোল শাখায়। শুক্রবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন।
জিআরপি সুত্রে জানা গেছে, ধৃতের নাম রঞ্জিত কুমার দে। উত্তর প্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা। ঘটনায় জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত্রে বর্ধমান-আসানসোল লোকাল ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন দুর্গাপুর “এ” জোনের বাসিন্দা এক মহিলা। ওইসময় ট্রেনের মধ্যে রঞ্জিত কুমার দে নামে এক যাত্রি তাকে উত্যাক্ত করছিল বলে অভিযোগ। ট্রেনের অন্য যাত্রীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে অন্ডাল জিআরপির হাতে তুলে দেয়। এবং নিগৃহীত মহিলা জিআরপি থানায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে রাত্রে হাওড়া থেকে কালকা মেলে বাড়ি ফেরার সময় এক জওয়ানের হাতে শ্লিলতাহানির শিকার হয় দুর্গাপুরের এক কিশোরী।
অভিযোগ, দুর্গাপুর আসার আগে এসএসবি ব্যাটালিয়নের ধীরেন্দ্র কুমার মিশ্র নামে ওই জওয়ান তাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করে।আরও অভিযোগ ট্রেনের মধ্যে ওই জওয়ান মদ্যপ ও অশ্লীল অর্ধননগ্ন অবস্থায় ঘুরছিল। অন্যান্য যাত্রীরা প্রতিবাদ করায়, তার সহকর্মীরা শুধু একটা প্যান্ট পরিয়ে দেয়। তবুও মদ্যপ অবস্থায় বেপরওয়া ঘুরছিল বলে অভিযোগ। তারপর দুর্গাপুর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছাতেই অভিযুক্ত ওই জওয়ান বাথরুমের ভেতর ঢুকে পড়ে। দুর্গাপুর স্টেশনে আরপিএফ অফিসারকে ঘটনার অভিযোগ জানানোর পর, তাকে বাথরুম থেকে বের করা হয়। পুলিশ তখনই ওই কিশোরীর বয়ান রেকর্ড করে। এবং ওই জওয়ানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় অণ্ডালের জিআরপি অফিসে। পরদিন তাকে আদালতে পেশ করে। এদিকে ট্রেনের মধ্যে একের পর এক মহিলা নিগ্রহের ঘটনায় যাত্রী সুরক্ষায় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।