আগরতলা, ৪ জুলাই৷৷ কৈলাসহর রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে মারামারির ঘটনার পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আজও কলেজের পরিবেশ উত্তপ্ত৷ সোমবার দফায় দফায় কলেজের অধক্ষ্যের কাছে ডেপুটেশন সহ কলেজ কাউন্সিল ভাঙাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে বাড়তি পুলিশ এবং টি.এস.আর বাহিনী মজুত ছিল দিনভর৷
গত ত্রিশ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছাত্র মাইকেল হালামকে কলেজের রুমের ভিতরে বেধড়ক মারধর করেছিলো কলেজের এবিভিপি-র সদস্যরা৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে এনএসইউআই ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির পক্ষ থেকে কৈলাসহরে দলীয় অফিস থেকে এক মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন রাজপথ পরিক্রমা করে কলেজে যায়৷ এরপর এনএসইউআই ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির সভাপতি সম্রাট রায়, ছাত্র নেতা নজরুল ইসলাম সানু এবং জুবের আহমেদ খানের নেতৃত্বে পনেরো জনের এক প্রতিনিধি দল দশ দফা দাবিতে কলেজের অধক্ষ্যের নিকট ডেপুটেশন প্রদান করে৷
ডেপুটেশন শেষে সম্রাট রায় জানান যে, উপজাতি কলেজ ছাত্র মাইকেল হালামকে যারা মেরেছে ওদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে৷ তিনি আরো অভিযোগ করেন, জোর করে উপজাতি ছাত্রদের এনে মীমাংসা বৈঠক করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং জোর করে মামলাও প্রত্যাহার করানো হয়৷ অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে কৈলাসহর বন্ধ ডাকা হবে বলেও হুংকার দিয়েছেন তিনি৷
এদিকে, এন এস ইউ আই ডেপুটেশন দেওয়ার দশ মিনিট পর ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অধক্ষ্যকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়৷ ডেপুটেশনের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠন এর রাজ্য কমিটির সভাপতি বিশু কুমার দেববর্মা, রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক জন দেববর্মা সহ আরও অনেকে৷ এদিকে এন এস ইউ আই এবং টি এস এফ -এর ডেপুটেশন চলাকালীন কে বা কাহারা কলেজের দ্বিতলে কাউন্সিল রুমে ঢুকে সমস্ত আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে চলে যায়৷
বিকেল বেলায় বিজেপি নেতা অরুণ সাহা এবং বিজেপি নেতা অরুপ ধরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল কলেজের অধক্ষ্যের নিকট ডেপুটেশন প্রদান করে দাবি করা হয় যে, কাউন্সিল রুমে সবকিছু ভাংচুর করেছে এন এস ইউ আই-এর সদস্যরা এবং কংগ্রেস নেতা মোঃ বদরুজ্জামানের উস্কানিতে এবং এন এস ইউ আই এর সভাপতি সম্রাট রায়ের নেতৃত্বেই এই ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা৷ অবিলম্বে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করে দোষীদের গ্রেফতার করার দাবি জানান বিজেপি নেতারা৷ তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এধরনের ঘটনায় শহরের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে৷ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিমত একাংশের৷