আগরতলা, ২১ জুন (হি. স.) : অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৬-আগরতলা ও ৮-টাউন বড়দোয়ালি বিধানসভা কেন্দ্রে আজ ২১ জুন বিকেল পাঁচটা থেকে ২৪ জুন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ১৪টি ভোট কেন্দ্র স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বত্রই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হয়েছে। মোট ১২ কোম্পানী কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী ও রাজ্য আরক্ষা বাহিনী রয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এছাড়াও সমস্ত বুথে ওয়েব কাস্টিং এবং ভিডিওগ্রাফি করা হবে। তাই, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য পশ্চিম জেলা প্রশাসনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন ৬-আগরতলা এবং ৮-টাউন বড়দোয়ালি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটারগণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বিকালে জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক দেবপ্রিয় বর্ধন সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন। জেলাশাসকের অফিসের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি জে রেড্ডি, ৬-আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার শৈলেশ যাদব এবং ৮-টাউন বড়দোয়ালি বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার অসীম সাহা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্ভয়ে ভোটদান করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিন জেলাশাসক দেবপ্রিয় বর্ধন জানান, ৬-আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫৫টি। ভোটার রয়েছেন ৫১ হাজার ৬৩৯জন। ৮-টাউন বড়দোয়ালি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫৬টি। ভোটার রয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৩ জন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই পোষ্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৮০ বছরের বেশী, বিশেষভাবে সক্ষম এবং কোভিড আক্রান্ত ভোটারদের ভোট নেওয়া হয়েছে। এই দুটো কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে জেলাশাসক জানান, নিয়মিত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় সিএপিএফ জওয়ানগণ টহল দিচ্ছেন, যোগ করেন তিনি।
জেলাশাসক জানান, ভোটগ্রহণের সময় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং করা হবে। সাথে ভিডিওগ্রাফি থাকবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য মাইক্রো অবজারভার দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী থাকবেন। তাঁর কথায়, দুটি বিধানসভা কেন্দ্রেই দুটো করে মডেল পোলিং স্টেশন করা হয়েছে। ৬-আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে মডেল বুথ হলো ৬/২৩ মৈত্রি ভারতী জেবি স্কুল এবং ৬/২৪ মিডেল বয়েজ সাউথ ওয়েস্ট বুথ। ৮-টাউন বড়দোয়ালি বিধানসভা কেন্দ্রে মডেল বুথ হলো ৮/১ রামনগর গার্লস হাই স্কুল পশ্চিমাংশ এবং ৮/২ রামনগর গার্লস হাই স্কুল উত্তর পশ্চিমাংশ। মহিলা ভোটকর্মী দ্বারা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র দুটো বিধানসভা কেন্দ্রেই দুটো করে করা হয়েছে। ৬-আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ এর ১ এবং ২ এবং ৮-টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্রে ৮ এর ১ এবং ২ নম্বর বুথ।
জেলাশাসক জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ৬-আগরতলা বিধানসভা ক্ষেত্রকে ৮টি সেক্টরে এবং ৮-টাউন বড়দোয়ালি বিধানসভা কেন্দ্রকে ৭টি সেক্টরে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরেই সেক্টর মেজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সেক্টর অফিসার রয়েছেন। তাঁর ঘোষণা, ইতিমধ্যেই এই দুটো বিধানসভা এলাকায় আজ বিকাল ৫টা থেকে ২৪ জুন সকাল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়া, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় ২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত এবং ২৬ জুন ড্রাই ডে ঘোষণা করা হয়েছে। জেলাশাসক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য।
এদিন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার জে রেড্ডি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন৷ তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য ১২ কোম্পানী কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী ও রাজ্য আরক্ষা বাহিনী রয়েছে। তাছাড়া টিএসআর জওয়ানও আছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানগণ থাকবেন। তিনি জানান, দুটো বিধানসভা কেন্দ্রে ১১১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ভোটকেন্দ্র স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।এদিকে, রিটার্নিং অফিসার শৈলেশ যাদব বলেন, উপনির্বাচনে প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিং অফিসার থাকবেন। তাঁরা ওয়েব কাস্টিং এবং ভিডিওগ্রাফির প্রতি নজর রাখবেন। এছাড়া প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন করে মাইক্রো অবজারভার থাকবেন। তাঁরা সরাসরি অবজারভারকে রিপোর্ট করবেন। এদিন তিনি সাফ জানান, বিকেল পাঁচটার পর থেকে বহিরাগত একজনও নির্বাচনী এলাকায় থাকতে পারবেন না। তাঁদের সন্ধানে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিমের সদস্যরা প্রত্যেক হোটেল, বিয়ে বাড়ি, লজ ইত্যাদি স্থানে অভিযান চালাবেন। বহিরাগত পাওয়া গেলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।