আগরতলা, ১৭ জুন (হি. স.) : হাওড়া নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তাই, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন রাজস্ব দফতরের প্রধান সচিব পুনিত আগরওয়াল। সাথে তিনি যোগ করেন, প্রত্যেক বছর জুন মাসে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৯৫এমএম। সেই তুলনায় এবছর শুধু আজকে সকাল এগারটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ১৪৫এমএম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে, আগরতলায় বিভিন্ন স্থানে জল জমে রয়েছে। তাই, ৭টি শরণার্থী শিবির ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে। আরো একটি শিবির খোলার প্রস্তুতি চলছে। তবে, অযথা আতঙ্কিত হবেন না, চিন্তার কোন কারণ নেই, অভয় দিয়ে বলেন তিনি।
এদিন তিনি বলেন, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাষ মেনেই সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরায় আট জেলায় সমস্ত জেলা শাসকদের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীকালও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাত হবে। তাই, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সমস্ত রকমভাবে প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর কথায়, আজ দিনভর ভারী বর্ষণে বিশেষ করে আগরতলা শহরে জল জমেছে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির এখনো খবর পাওয়া যায়নি।
তাঁর দাবি, জল নিষ্কাশনে আগরতলায় ১৭টি পাম্পের মধ্যে বর্তমানে ১৬ টি কাজ করছে। দ্রুত রাস্তায় জমা জল সরানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, আজ আগরতলা শহর জলমগ্ন হওয়ার কারণে ৬টি দল উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ছিল। সিভিক ভলেনটিয়ারদের ৩টি এবং অগ্নি নির্বাপক, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১টি করে দল উদ্ধারকাজে সহায়তা করেছে। তাছাড়া, ৪০০ প্যাকেট খাবার বিলি করা হয়েছে।
রাজস্ব দফতরের প্রধান সচিব বলেন, হাওড়া নদীর জলস্তরের বিপদসীমা ৯.১৩ মিটার। কিন্ত ভারী বর্ষণের কারণে ওই বিপদসীমা অতিক্রম করে বর্তমানে জলস্তর বেড়ে হয়েছে ৯.৩৩মিটার। তবে, অযথা ভয় পাবেন না। সমস্যা শুধুই আগরতলা শহরে দেখা দিয়েছে। খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, আশ্বস্ত করেন তিনি। তাঁর কথায়, সমস্ত জেলা শাসকদের নদীর জলস্তর বৃদ্ধির দিকে নজরদারি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কঠিন পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।এদিন রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক ড. শরৎ দাস বলেন, আগরতলায় জল জমে যাওয়ায় মানুষের জন্য ৭টি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। রাধানগরে রাধা মাধব মন্দির, ইন্দ্রনগর স্কুল, বিটারবন কমিউনিটি হল, ঋষি কলোনী কাসাম আলি স্কুল, দাস পাড়া স্কুল, মূলা পাড়া স্কুল এবং প্রতাপগড় স্কুলে শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। এছাড়া, তুলশিবতী বালিকা বিদ্যালয়ে আরো একটি শরণার্থী শিবির খোলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।