Road Work : লামডিং-বদরপুর পাহাড়লাইনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে মেরামতির কাজ

হাফলং (অসম), ২৫ মে (হি.স.) : লামডিং-বদরপুর পাহাড়লাইন রেলপথে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে মেরামতির কাজ চলছে। ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রক লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজ রেলপথ সচল করে তুলতে ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

উল্লেখ্য প্রবল বৃষ্টির দরুন গত ১৪ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনের ৫৮টি স্থানে ধস নেমেছিল। ফলে অনিৰ্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে রেলপথটি। প্রবল বৃষ্টির দরুন প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্যে ভরপুর পাহাড়লাইনের দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশন নিউহাফলংও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। গোটা রেল স্টেশনটি এখনও মাটির নীচে। স্টেশনে দুটি ইঞ্জিনও সম্পূর্ণ পাথুরে কাদামাটির নীচে বিরাজ করছে। বর্তমানে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ পাহাড় লাইনের বিভিন্ন স্থানে স্পট টেন্ডার ডেকে বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থাকে কাজের বরাত দিয়েছে।

ইতিমধ্যে পাহাড় লাইনের বেশ কিছু স্থানে ধস সরিয়ে রেলপথ সারিয়ে তোলা হয়েছে। তাছাড়া ভূমিধসে যে সব এলাকায় মাটি সরে গিয়ে রেলপথ ঝুলে পড়েছে বা রেল সেতুর নীচ থেকে মাটি সরে গেছে, সেই সব স্থানে পাথর মাটি দিয়ে ভরাট করে প্রটেকশনের কাজ চলছে। এদিকে জাটিঙ্গা, লামপুর ও হারাঙ্গাজাওয়ের মধ্যে ১৫ নম্বর টানেলে ধস নেমে ও পাহাড় থেকে জল নেমে এসে সম্পূর্ণ টানেল বন্ধ হয়ে পড়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে এই টানেল থেকে মাটি ও জল বের করে সারিয়ে তোলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার থেকে নিউহাফলং স্টেশনে সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। নিউহাফলং স্টেশনে এখনও প্রচুর জল জমে রয়েছে। এখন ড্রজার ও ফকলেন লাগিয়ে জল নিষ্কাশন ও ধস সরানোর কাজে হাত দিয়েছে নির্মাণ সংস্থা। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে পাহাড় লাইনে রেল চলাচল সচল করার লক্ষ্যে রেল কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে রেলপথ মেরামতির কাজ করে চলছে। কারণ লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজ রেলপথে ধস নেমে গত এগারো দিন রেলপথটি বন্ধ হয়ে পড়ার দরুন বরাক উপত্যকা সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য ত্রিপুরা মণিপুর, মিজোরামের সঙ্গে বহিঃরাজ্যের যোগাযোগ সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে পড়েছে।

তাই প্রতিবেশী এই তিনটি রাজ্যে পণ্য সামগ্রী পাঠাতে এবং এ সব রাজ্যের রেলযাত্রীদের জন্য রেলপথটি অবিলম্বে সচল করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচুর চাপ রয়েছে। তাই রেলপথটি সচল করে তুলতে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ দিন রাত এক করে লামডিং বদরপুর রেলপথটি মেরামতির কাজ করে চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *