নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ ফেব্রুয়ারি৷৷রাজ্যের মানুষের মধ্যে মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে৷ সরকারের রূপায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সুুফল বর্তমানে মানুষ অনুভব করতে পারছেন৷ আজ আগরতলার বোধজং গার্লস সুকলের সামনে আগরতলা মার্ট সিটি প্রকল্পের অন্তর্গত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ যে সমস্ত প্রকল্পের আজ উদ্বোধন করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে রয়েছে ভলকান ক্লাব থেকে হরিজন কলোনী পর্যন্ত আরসিসি কভার ড্রেন নির্মাণ, বোধজং চৌমুহনি থেকে ভগবান চৌমুহনি পর্যন্ত দীর্ঘ ফুটপাত এবং কভার ড্রেন নির্মাণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বি কে রোড নির্মাণ, বি কে রোডের কভার ড্রেন এবং ফুটপাত নির্মাণ, ৪০টি মার্ট বাস সেল্টার নির্মাণ এবং আমত প্রকল্পে বোধজং গার্লস সুকলের উন্নতি এবং সৌন্দর্যায়ন৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে গুণগত দিক বজায় রাখার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠন হওয়ার পর আগরতলা সহ দেশের ১০০টি শহরের সার্বিক উন্নয়নের উপর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো৷ আগে শহরের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা দেখার বা অনুভূতি নিতে জনগণকে বড় বড় শহরে যেতে হতো৷ কিন্তু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী এই ভাবনায় পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন৷ বড় শহরের উন্নয়নের পাশাপাশি ছোট শহরগুলির উন্নয়নের ফলে সেখানকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে৷
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে৷ মহিলা স্বসহায়কদের মাধ্যমে আগরতলা শহরের বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের কাজ চলছে৷ রাজ্য সরকার আগরতলা শহরের বর্ষায় জল জমা সমস্যা নিরসনে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার পাশাপাশি ড্রেনগুলির উন্নতিকরণের উপর জোর দিচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা সহ আরবান লোকাল বডিগুলির উন্নতিকরণের স্বার্থে এডিবি থেকে ১৬০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে৷ এই অর্থে আগামীতে রাজ্যের পুর এলাকাগুলিতে সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বনমালিপুর এলাকার উন্নয়নে এখন পর্যন্ত নগর উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে ২৪টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে৷ এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে৷ হাওড়া নদীর দু’পাশ উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যায়নে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে৷ সড়ক উন্নয়নে ৪০০ কোটি টাকার টেণ্ডার করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্লাস্টিক রোড তৈরি করা হয়েছে, যা ত্রিপুরা প্রথম৷ আগামীতে বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কিভাবে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায় সেই দিশাতেই বর্তমান সরকার কাজ করছে৷ তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনায় বনমালিপুর এলাকায় বড়মাত্রায় ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে৷
অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, বিধায়ক ডা. দিলীপ কুমার দাস৷ এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়, আগরতলা মার্ট সিটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান কিরণ গিত্যে৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা মার্ট সিটি লিমিটেডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ড. শৈলেশ কুমার যাদব৷

