সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার মনোন্নয়ন : জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ ফেব্রুয়ারি৷৷ একলব্য সুকলগুলির ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসরুমে আরও মনযোগী, সহানুভূতিশীল, সৃষ্টিশীল করে গড়ে তুলতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অনলাইন কর্মশালা আজ শুরু হয়েছে৷


আজ সচিবালয়ের ভিডিও কনফারেন্স হলে অনলাইনের মাধ্যমে এই কর্মশালার সূচনা করেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীন ত্রিপুরা ট্রাইবেল ওয়েলফেয়ার রেসিডেনশিয়াল এডুকেশন্যাল ইনস্টিটিউশন সোসাইটি পরিচালিত একলব্য সুকলগুলির ১০৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে চারটি ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ ব্যাঙ্গালোরস্থিত সংস্থা ড্রিম এ ড্রিম এই কর্মশালার আয়োজন করেছে৷ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত৷


কর্মশালার সূচনা করে উপজাতি কল্যাণমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করা৷ কারণ শিক্ষা সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ রাজ্যের বিভিন্ন একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলিতে বর্তমানে ১০৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ২৮৫৬ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছেন৷ একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলির ছাত্র-ছাত্রীদের গুণগত মানের এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাদানের লক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন৷ এজন্য প্রথম পর্যায়ে ঐ বিদ্যালয়গুলির ১০৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তর৷ ’ড্রিম-এ-ড্রিম’ নামক সংস্থাটি ৪টি ব্যাচে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই প্রশিক্ষণ দেবে৷ এই ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি রাজ্যের শিক্ষকদের জন্য অবশ্যই ফলদায়ক হবে এবং ছাত্রছাত্রীরাও উপক’ত হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন৷ পরবর্তীতে রাজ্যের অন্যান্য সরকারী বিদ্যালয়গুলিতেও এই ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷
অনুষ্ঠানের শুরুতে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব তনুশ্রী দেববর্মা বলেন, একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলি রাজ্যের প্রত্যন্ত অ’লে অবস্থিত৷ এই সব বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকারের জনজাতি মন্ত্রক রাজ্য সরকারকে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়নে সহায়তা করছে৷


এই বিদ্যালয়গুলিতে জনজাতি ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি পোশাক ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ একলব্য মডেল রেসিডেনশিয়াল বিদ্যালয়গুলি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করছে৷ সচিব শ্রীমতি দেববর্মা তথ্য দিয়ে জানান,গত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলিতে মাধ্যমিকে ৯৬ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাশ করেছে৷ বহু ছাত্রছাত্রী বর্তমানে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য বিভিন্ন খ্যাতি সম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে৷ জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব আরও বলেন,আজ থেকে যে কর্মশালা শুরু হয়েছে তার মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভূমিকা অন্বেষণ করা, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে হৃদ্যতা তৈরিতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের দক্ষতা সৃজনশীলতা খঁজে বের করা এবং সমাজকে শক্তিশালী করা৷

এই কর্মশালার মাধ্যমে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপকার হবে যা ২৮৫৬ জন শিক্ষার্থীকে পরবর্তী পর্যায়ে রূপান্তর ঘটাবে৷ জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীন বিভিন্ন ছাত্রাবাসগুলিতে গুণগতমানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে জনজাতি কল্যাণ দপ্তর এই ধরণের কর্মসূচী আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়েছে৷অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ’ড্রিম-এ-ড্রিম’ সংস্থার সি ই ও সুুচেতা ভাট আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন৷