নে পি দ, ৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): মায়ানমারে আগেই বন্ধ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক । এবার টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে মায়ানমারের সামরিক জুন্টা। শুক্রবার সন্ধ্যায় মায়ানমারের অন্যতম ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেলিনর নিশ্চিত করেছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এ সাইট দুটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। খবর বিবিসি।
এর আগে ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিতের নাম করে ফেসবুকও ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এ যোগাযোগমাধ্যমটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভ্যুত্থান বিরোধিতায় অনেক ব্যবহারকারীই টুইটার ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মকে বেছে নেন। তবে অভ্যুত্থান বিরোধীদের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ যেন আরও ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষ সামাজিকমাধ্যমগুলো বন্ধের পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মায়ানমারে টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে নরওয়ের কোম্পানি টেলিনর। টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের সত্ত্বাধিকারী ফেসবুকও মায়ানমারের সামরিক জুন্টার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানী নে পি দ-তে অভিযান চালিয়ে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) -এর প্রধান অং সান সু কি ও প্রেসিডেন্টসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে আটকের পর ফের দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। মায়ানমারের গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে করা প্রতারণার প্রতিক্রিয়ায় সরকারের শীর্ষ নেতাদের আটক করেছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে এক বছরের জন্য দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর সেনাপ্রধান মিন অং লাইংয়ের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। অর্থ, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্রসহ ১১ জন মন্ত্রী ও ডেপুটির পদে রদবদল করা হয়।
পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইয়াঙ্গনের রাস্তায় অভ্যত্থানের প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় মায়ানমারে। এ আন্দোলনে শরিক হয়েছেন দেশটির চিকিৎসক ও শিক্ষক সমাজের পাশাপাশি নানা পেশার মানুষ। অভ্যুত্থানের পর একাধিক শহরে নানা ধরনের বিক্ষোভ হলেও গত বৃহস্পতিবার প্রথম দেশটির মান্দালয় শহরে রাজপথে নেমে অভ্যুত্থানবিরোধী স্লোগান দেয় একদল বিক্ষোভকারী। সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে সেই আন্দোলন যাতে বৃহত্তর রূপ নিতে না পারে তা আটকাতেই মায়ানমারের সামরিক জুন্টা ফেসবুকের পর এবার টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে ।

