চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তাদের অভিযানে ভাঙল বাল্য বিবাহ, দরজা বন্ধ করে ফাঁসিতে আত্মহত্যার চেষ্টা নাবালিকা কনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ ফেব্রুয়ারি৷৷ রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ণ যোগেন্দ্র নগর সুভাষ নগরের কালী টিলা এলাকায় এক নাবালিকার বিয়ে ভেঙে দিলেন মহিলা থানার পুলিশ৷ সংবাদ সূত্রে জানা গেছে ভালোবাসার সূত্র ধরে ইন্দ্রনগর এলাকার এক নাবালিকা তার প্রেমিকের হাত ধরে প্রায় এক মাস আগে সুভাষ নগরের কালী টিলা এলাকায় তার বাড়িতে চলে আসে৷ ছেলের বাড়ির তরফ থেকে বিষয়টি মেয়ের বাড়ির লোকজনদের জানানো হয়৷ কিন্তু তারা মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যেতে অস্বীকার করে৷


শেষ পর্যন্ত ছেলের বাড়িতেই দীর্ঘ এক মাস ধরে সহাবস্থান করে ওই নাবালিকা৷বিষয়টি নিয়ে সুভাষ নগরের কালী তলা এলাকায় রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়৷ছেলের বাড়ির তরফ থেকে বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি মন্ডল নেতাসহ মাতববরদের জানানো হয়৷বিষয়টি নিয়ে মন্ডল নেতা সহ মাতববররা বৈঠক করেন৷বৈঠকে ওই নাবালিকা কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সে নিজের ইচ্ছেতে এখানে এসেছে না তাকে জোর করে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে৷ সে তার বাপের বাড়িতে ফিরে যেতে চায় কিনা তাও জানতে চান নেতা মাতববররা৷ নাবালিকা কন্যাটি স্পষ্ট ভাবে জানায় সে তার নিজের ইচ্ছেতে এ বাড়িতে চলে এসেছে৷ সে কোনভাবেই তার বাপের বাড়িতে ফিরে যেতে চায় না বলে জানায়৷

শেষপর্যন্ত মন্ডল নেতাদের সম্মতিক্রমে ছেলের বাড়িতে বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়৷ সে অনুযায়ী বুধবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল৷ নাবালিকার বিয়ের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়ে গেছে খবর পেয়ে চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর সুতপা হোম রায় মহিলা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কালীটিলায় ওই যুবকের বাড়িতে হানা দেয়৷ বুধবার ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তারা লক্ষ্য করেন বাড়িতে বিয়ের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত৷ চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর বিয়ে বন্ধ রাখার জন্য ছেলের বাড়ির লোকজনকে প্রস্তাব দেন৷ নাবালিকা মেয়ের সঙ্গেও চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলার কথা বলেন৷সেখান থেকে নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করে মহিলা থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে চাইল্ড লাইন৷ তখন ঐ মেয়েটি কাপড় পরার নাম করে ঘরের ভিতরে গিয়ে সব দরজা বন্ধ করে দেয়৷তাতে চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর এবং পুলিশের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে৷


ডাকাডাকি করার পরও কোনো সাড়া না দেওয়ায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে পুলিশ এবং চার লাইনের কর্মীরা ভিতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করেন৷চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর সুতপা রায় জানান মেয়েটির ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে শাড়ির আচল দিয়ে ফাঁসিতে আত্মহত্যার উদ্যোগ নিয়েছিল৷ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার ফলে তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ সেখান থেকে নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করে আগরতলা পূর্ব থানায় নিয়ে আসা হয়৷ চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর জানান মেয়েটির বাপের বাড়ির সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন৷ তারা মেয়েটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেছে৷তারা যদি নাবালিকা মেয়েটিকে বাড়িতে না নেয় তাহলে তাকে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন৷


এদিকে আইন কানুন সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল সত্য শাসক দলের নেতা মাতববররা কিভাবে একটি নাবালিকার বিয়ের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিলেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ণ দেখা দিয়েছে৷সরকার এবং প্রশাসন যেখানে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে এবং বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও স্লোগান কে বাস্তবায়িত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেখানে শাসক দলের নেতা মাতববররা নাবালিকা বিয়ে দেওয়া যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা কতটা আইন সম্মত তা নিয়েও প্রশ্ণ উঠেছে৷ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে৷