অতি তৎপর প্রশাসন, গাজিপুর সীমানায় আটকে দেওয়া হল বিরোধীদের

নয়াদিল্লি, ৪ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): এমনটাই প্রত্যাশা ছিল, আর তাই হল। দিল্লি-উত্তর প্রদেশ লাগোয়া গাজিপুর সীমানায় আটকে দেওয়া হল ১০টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ১৫ জন সাংসদকে। এই ১৫ জন সাংসদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি এবং শিরোমণি অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদল-সহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা। বৃহস্পতিবার সকালে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গাজিপুর সীমানায় যান ১৫ জন সাংসদ। কিন্তু, পুলিশ-প্রশাসন তাঁদের আটকে দেয়। পাশাপাশি বিরোধী সাংসদদের দল গাজিপুর পৌঁছনোর আগেই গাজিপুর সীমানায় ব্যারিকেডের কাছে মাটিতে পোঁতা পেরেক তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যাচ্ছে গাজিপুর থেকে পেরেক তুলে নেওয়া হয়েছে। আসলে এমনটা নয়।

গাজিপুর সীমানার বেশ কিছু আগেই আটকানো হয় সৌগত, সুপ্রিয়া, হরসিমরতদের। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ দেখা করতে না দেওয়া ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হরসিমরত। তিনি বলেন, “কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি, যাতে সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায়। কিন্তু স্পিকার বিষয়টি উত্থাপন করতে দিচ্ছেন না আমাদের। তাই আমরা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এসেছি।” সুপ্রিয়া সুলে বলেন, ‘আমরা সকলে কৃষকদের সমর্থন করছি, সরকারের কাছে অনুরোধ করছি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করা হোক।’ কৃষকদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেয়ে ফিরে আসেন সকলে।

কৃষক আন্দোলন নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল সংসদ। অচলাবস্থা কবে কাটবে তা নিয়ে কোনও দিশা নেই। কৃষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড বৈঠক হয়েছে, তাও কোনও সমাধানসূত্র বের হয়নি। বিগত দু’মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লি লাগোয়া সিংঘু, টিকরি এবং গাজিপুর সীমানায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা।